মোসাদ্দেকের ফেরা রঙিন ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংসে

· Prothom Alo

ফিফটি পেরোনোর পর মাঠে প্রায় সব দর্শকেরই করতালি পেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। তখনো অবশ্য তাঁর কাঁধে দায়িত্ব ছিল অনেক। তবু মোসাদ্দেক ততক্ষণ পর্যন্ত যা করেছেন, তা–ই বা কম কী!

মাঝে বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে একরকম বিস্মৃতই হয়ে পড়েছিলেন। খোদ প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেনও বলে দিয়েছিলেন, মেহেদী হাসান মিরাজ থাকতে দলে সুযোগ নেই তাঁর। তবু মোসাদ্দেক হাল ছাড়েননি।

Visit newsbetsport.bond for more information.

ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে গেছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে আবাহনীর হয়ে ৭ ইনিংসে ৬৭.৩৩ গড় ও ১৩৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৩৩৬ রান করেন মোসাদ্দেক। বল হাতেও নেন ১২ উইকেট।

মিরাজের অধিনায়কত্বেই আজ ৪ বছর পর ওয়ানডেতে ফিরলেন মোসাদ্দেক। এই প্রত্যাবর্তনকে রঙিনও করলেন আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার–সেরা ইনিংসে। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে ২৭ বলে ৫২ রান ছিল এতদিন তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ।

আজ নাজমুল হোসেন আউট হওয়ার পর তিনি যখন উইকেটে যান, তখন দল ২৫.৩ ওভারে ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে। ৩৪ রানের মধ্যে পড়েছিল ৩ উইকেট।

অপরাজিত ফিফটি তুলে নেন মোসাদ্দেক

সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে তোলার কাজটা শুরু করেন মোসাদ্দেক। তাঁর সঙ্গী হৃদয় অবশ্য খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য ছিলেন না— ৫১ বলের ইনিংসে ৩১ রান করার পথে তাঁর ব্যাটে বাউন্ডারি ছিল কেবল একটি।

আরেকপ্রান্তে মোসাদ্দেক বাউন্ডারিতে রানের চাকা সচল রাখেন। হৃদয় আউট হওয়ার পর ৪৯ বলে পেয়ে যান ফিফটি। এরপর দায়িত্বটা আরও বেড়ে গিয়েছিল মোসাদ্দেকের জন্য। কারণ ১২ বলে ৩ রান করে তাঁর ফিফটির পরের বলেই আউট হয়ে যান অধিনায়ক মিরাজ।

একদিকে উইকেট বাঁচিয়ে পুরো ৫০ ওভার খেলতে হবে, সমান তালে তুলতে হবে রানও। কাজটা ভালোভাবেই করেছেন মোসাদ্দেক। ফিফটি পাওয়ার পরের ওভারেই অ্যাডাম জাম্পাকে টানা তিন বলে বাউন্ডারি মারেন।

তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে পুরো ৫০ ওভার পর্যন্তই টেনে নিয়েছেন বাংলাদেশের ইনিংস। মিডল অর্ডারের বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দলের রান তিন শ না পেরোলেও ৮ উইকেটে থেমেছে ২৮৪ রানে। ৭০ বলের ইনিংসে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় মোসাদ্দেক অপরাজিত থেকেছেন ৮৬ রান করে।

শেষ পর্যন্ত ব্যাট করেন মোসাদ্দেক

৬–৭ এ ব্যাট করবেন, সঙ্গে করতে পারবেন বোলিং— এমন একজন ক্রিকেটারের খোঁজ বাংলাদেশ করছে অনেকদিন ধরেই। সর্বশেষ দুটি সিরিজে সেই চেষ্টা হয়েছিল আফিফ হোসেনকে দিয়ে। তবে তাঁর ব্যর্থতার পর দুশ্চিন্তা বেড়ে যায় বাংলাদেশের।

বিকল্প খুঁজতে খুঁজতে নির্বাচকরা আস্থা রাখেন মোসাদ্দেকের ওপর। প্রথম ম্যাচেই অন্তত ব্যাট হাতে প্রতিদান দিয়েছেন তিনি। এখন বোলিংয়ে কী করেন, সেটিই দেখার। একজন অলরাউন্ডার যে এই দলে ভীষণ দরকার!

৪ বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেকের ভূমিকা কী হবে

Read full story at source