ব্যাংক খাতে ‘অ্যান্টিএস আলম ল’-এর সন্ধানে
· Prothom Alo

বাংলাদেশে ব্যাংক দখলের সঙ্গে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ব্যাংক দখল বা মালিকানা পরিবর্তনের তুলনা করে লিখেছেন শওকত হোসেন
Visit chickenroadslot.lat for more information.
এস আলমের ইসলামী ব্যাংক দখলের কাহিনি এখন সবারই জানা। ব্যাংক ডাকাতি অনেক পুরোনো পেশা, যা সারা পৃথিবীতে এখনো হয়। ব্যাংক ডাকাতির অসংখ্য ঘটনা থাকলেও ব্যাংকের মালিকানা দখলের ঘটনা খুব একটা নেই। এর আগে ১৯৯৯ সালে অস্ত্র হাতে ইউসিবিএল দখল করতে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। তবে মামার ব্যর্থতা দেখে হয়তো শিক্ষা নিয়েছিলেন তাঁরই ভাগনে এস আলম। আর তাই রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীকে ব্যবহার করে খুব সহজেই দখল করছিলেন একে একে ছয়টি ব্যাংক।
বাজার থেকে শেয়ার কিনে মালিকানা দখল বা নিজ ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের আরও কিছু ঘটনা অন্য দেশেও আছে। এখন দেখা যাক তারা কী করেছে, আর আমরা কী করছি।
মলদোভার শতাব্দীর সেরা চুরি
ইউরোপের অন্যতম দরিদ্র দেশ মলদোভা একসময় ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ। দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যাংক বানকা দে একোনোমিই ছিল সোভিয়েত আমলের সেভিংস ব্যাংকের উত্তরসূরি। ২০১২ সালেও মলদোভা সরকারের হাতে ছিল ব্যাংকটির ৫৬ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার। এরপর সরকার অতিরিক্ত শেয়ার ছাড়া শুরু করে।
২০১৩ সালে দেখা যায় সরকারের অংশীদারত্ব আছে ৩৩ দশমিক ৩৮ শতাংশে। এর পর থেকেই ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে যেতে শুরু করে। আর সেই বেসরকারি গোষ্ঠীর মূল ব্যক্তি হচ্ছেন ইলান শোর। ১৯৮৭ সালে ইসরায়েলে তাঁর জন্ম। পরে তাঁর পরিবার মলদোভায় চলে আসে। বাবার মৃত্যুর পরে ১৮ বছর বয়সে পারিবারিক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন এবং দ্রুতই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। রাশিয়ার জনপ্রিয় পপ গায়িকা জাসমিনকে বিয়ে করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিও অর্জন করেন।
প্রথম আলোতে আমরা ২০২২ সালে ইসলামী ব্যাংকে ‘ভয়ংকর নভেম্বর’ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলাম। ওই বছরের ১ থেকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে ইসলামীসহ তিনটি ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
মলদোভার ঘটনাও আরেকটি ভয়ংকর নভেম্বরের কাহিনি। ২০১৪ সালের ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর—মাত্র তিন দিনে মলদোভার তিনটি ব্যাংক থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ঋণের নামে তুলে নিয়ে পাচার করেছিলেন ইলান শোর। এই অর্থ দেশটির মোট জিডিপির ৮ শতাংশ। এই তিন ব্যাংকের মধ্যে বানকা দে একোনোমিই ছিল সরকারি মালিকানায়, ইউনিব্যাংকের মালিক ইলান শোর ঘনিষ্ঠরা এবং ইলান শোর নিজেই বানকা সোশিয়ালার মালিক হন ২০১৩ সালে।
পুরো ঘটনাটি ঘটে মলদোভার নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে। ঘটনা জানাজানি হলে ব্যাংক তিনটিকে বাঁচাতে সরকার ৮৭ কোটি ডলার সহায়তা দেয় এবং বিশেষ প্রশাসক বসানো হয়। এমনিতেই ছোট ও দরিদ্র দেশ। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হওয়ায় রাষ্ট্রীয় ঋণ ও মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং স্থানীয় মুদ্রার মান পড়ে যায়।
২০১৫ সালের ৩ মে মলদোভার রাজধানী কিশিনাউতে এর প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। তাদের অভিযোগ ছিল, পুরো ঘটনা সরকার জেনেও সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি এবং এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা জড়িত। একে এখনো মলদোভায় ‘দ্য থেফট অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা ‘শতাব্দীর সেরা চুরি’ বলা হয়।
পরে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ক্রলের তদন্তে দেখা গেছে, তিন ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনা পর্ষদ এমনভাবে বদলানো হয়, যার মাধ্যমে ব্যাংক তিনটির নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে একটাই গোষ্ঠী, যার মূল ব্যক্তি ইলান শোর। ব্যাংকগুলো যখন ইলান শোরের নিয়ন্ত্রণে যেতে শুরু করে, তখন মলদোভার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ভ্লাদ ফিলাত। পরে ইলান শোর নিজেই জানান যে তিনি ফিলাতকে ঘুষ দিয়ে রাজনৈতিক সুরক্ষা পেয়েছিলেন। ফিলাতকে ২০১৫ সালে সংসদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাঁর ৯ বছরের কারাদণ্ড হয়।
২০১৭ সালে ইলান শোরকে প্রথমে সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ২০২৩ সালে মলদোভার আপিল আদালত তাঁর সাজা বাড়িয়ে ১৫ বছর করেন। এখনো তিনি পলাতক, রাশিয়ার আশ্রয়ে আছেন।
ব্যাংক রেজোল্যুশন কী
কোনো দেশে ব্যাংক বিপদে পড়লে, ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়লে তাকে এখন সাধারণত দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়ায় নয়, বরং বিশেষ আইনি ব্যবস্থায় সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে আমানতকারীকে সুরক্ষা দেওয়া ও জরুরি ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা। একেই বলে ব্যাংক রেজোল্যুশন। মলদোভা ব্যাংক বাঁচাতে এই নীতিই নিয়েছিল।
এর শুরু হয়েছিল ১৯৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে, মহামন্দার পরিপ্রেক্ষিতে। ১৯২৯ সালে দেশটির শেয়ারবাজারে ধস নামে। এরপর অর্থনীতি দ্রুত মন্দায় পড়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য কমে যায়, মানুষের আয় কমে এবং বেকারত্ব বাড়তে থাকে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে ব্যাংক খাতে। মানুষ ব্যাংকের ওপর আস্থা হারিয়ে একসঙ্গে টাকা তুলতে যায়। কিন্তু ব্যাংকের হাতে এত নগদ অর্থ ছিল না। ফলে একের পর এক ব্যাংক বন্ধ হতে থাকে।
ইউক্রেন তো ‘অ্যান্টিকলোমোইস্কি ল’ তৈরি করে পুরোনো ব্যাংক মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ করেছে। এখন এই উদাহরণ মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকারও ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন আবার সংশোধন করুক, যাতে পুরোনো মালিকেরা ফিরতে না পারেন। তাহলে আমরাও এই আইনকে ‘অ্যান্টিএস আলম ল’ বলতে পারব।
১৯৩৩ সালের ৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। ক্ষমতায় এসেই তিনি অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতে বড় সংস্কার শুরু করেন। প্রথমেই তিনি দেশজুড়ে সাময়িকভাবে ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা করেন। এটিকে বলা হয় ব্যাংক হলিডে। এরপর ১৯৩৩ সালের ৯ মার্চ ইমার্জেন্সি ব্যাংকিং অ্যাক্ট পাস করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে তুলনামূলক ভালো ব্যাংকগুলো ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হয়। এরপর ১৬ জুন পাস হয় ব্যাংকিং অ্যাক্ট ১৯৩৩।
এই আইনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিনিয়োগ ব্যাংকের কাজ আলাদা করা হয়। গঠন করা হয় ফেডারেল ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স করপোরেশন (এফডিআইসি)। এর কাজ ছিল আমানতকারীর টাকা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বিমার আওতায় আনা এবং কোনো ব্যাংক ব্যর্থ হলে সেটি সামলানোর ব্যবস্থা করা। এই দুই আইনের কারণে রক্ষা পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক খাত।
ব্যাংক রেজোল্যুশন বিষয়টি আন্তর্জাতিক রূপ পায় ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর। সে সময়ে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধসে পড়লে সেগুলো কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা শুরু হয়। দেখা যায় যে অনেক দেশেই এ ধরনের সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থা নেই। এরপর ২০০৯ সালে জি-২০ দেশগুলোর উদ্যোগে এ জন্য গঠন করা হয় ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বোর্ড (এফএসবি)। এর কাজ ছিল বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করা এবং বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা।
এরপর ২০১১ সালের অক্টোবরে এফএসবি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সামলানোর জন্য একটি আন্তর্জাতিক নীতিমালা গ্রহণ করে। এর নাম ছিল ‘কি অ্যাট্রিবিউটস অব ইফেকটিভ রেজোল্যুশন রেজিমস ফর ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন’। ২০১১ সালের নভেম্বরে ফ্রান্সের কান শহরে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর নেতারা এই নীতিমালাকে অনুমোদন দেন। এটাই হচ্ছে ব্যাংক রেজোল্যুশনের মূল কাহিনি।
বাংলাদেশে ব্যাংক রেজোল্যুশন
বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো হিসেবে প্রথম ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করা হয় ২০২৫ সালের ৯ মে। তখন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায়। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে সংকটে পড়া তফসিলি ব্যাংকের ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়। যেমন অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ, ব্যাংক একীভূত করা, ব্রিজ ব্যাংক গঠন, সম্পদ ও দায় অন্য প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর এবং প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
এই অধ্যাদেশের আওতাতেই দেউলিয়া হওয়ার পর্যায়ে থাকা ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করা হচ্ছে। ব্যাংকগুলো যে পর্যায়ে গেছে, তাতে এর বিকল্পও আপাতত ছিল না। তবে বিতর্ক শুরু হয়েছে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে, যখন এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়া হয়। কেননা, জাতীয় সংসদে পাস করার সময় কিছু ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকের আগের মালিকদের আবার মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ রাখা নিয়েই সমালোচনা প্রবল। ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নেতারাও ১১ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
ব্যাংক খাতে ‘লাইসেন্স টু লুট’, বাংলাদেশ সংস্করণপাস হওয়া আইনের ১৮ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যাঁরা এর শেয়ার ধারক ছিলেন, তাঁরা চাইলে পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ সুযোগ দিতে পারবে। তবে এর জন্য আবেদনকারীকে কয়েকটি অঙ্গীকার করতে হবে। তাঁকে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব অর্থ ফেরত দিতে হবে। ব্যাংক চালাতে নতুন মূলধন দিতে হবে এবং মূলধন ঘাটতি পূরণ করতে হবে। আগের আমানতকারী, দেশি-বিদেশি পাওনাদার ও তৃতীয় পক্ষের বৈধ দাবি মেটাতে হবে। কর ও অন্যান্য সরকারি পাওনাও পরিশোধ করতে হবে।
আবেদন মঞ্জুর হলে তিন মাসের মধ্যে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অর্থের সাড়ে ৭ শতাংশ পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। বাকি সাড়ে ৯২ শতাংশ অর্থ শেয়ার হস্তান্তরের দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।
পুরোনো মালিকদের ফেরানো হয় না
মলদোভা ইলান শোরকে ফিরতে দেয়নি। তবে পুরোনো মালিকদের বিষয়ে সবচেয়ে ভালো উদাহরণ তৈরি করেছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ব্যাংক প্রিভাতব্যাংক। ইউক্রেনের আর্থিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ব্যাংক। ২০১৬ সালে ইউক্রেন সরকার ব্যাংকটি জাতীয়করণে বাধ্য হয়। কারণ, প্রিভাতব্যাংক থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ে। এই ব্যাংকের মালিক ছিলেন ইউক্রেনের প্রভাবশালী অলিগার্ক ইহর কলোমোইস্কি। তদন্তে দেখা গেছে, ঋণের বড় অংশই ছিল ভুয়া।
যথারীতি সব অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যাংকটি আবার ফিরে পেতে ইহর কলোমোইস্কি আদালতে যান। প্রথমে ইউক্রেনের একটি আদালত প্রিভাতব্যাংক জাতীয়করণকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পরে সরকার আপিল করলে জাতীয়করণ বহাল থাকে। এরপরই ২০২০ সালে ইউক্রেনের সংসদ একটি নতুন ব্যাংক আইন পাস করে। নতুন আইনে সাবেক মালিকদের আদালতের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্ধার করা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফেরত নেওয়া বন্ধ করা হয়। আইএমএফ এই আইনকে সমর্থন করে।
আইনটির মূল কথা ছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো ব্যাংককে দেউলিয়া ঘোষণা বা রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্ধার করলে পরে আদালত সেই সিদ্ধান্তে ত্রুটি পেলেও ব্যাংকটি আগের মালিকদের ফেরত দেওয়া যাবে না। তবে তারা আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবে।
এই আইনের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিলেন ইহর কলোমোইস্কি। তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের সুপ্রিম কোর্ট কলোমোইস্কির আপিল খারিজ করে জানান, প্রিভাতব্যাংক আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না এবং জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। কাগজে-কলমে এটি ৫৯০ নম্বর আইন। কিন্তু এখন একে বলা হয় ‘অ্যান্টিকলোমোইস্কি ল’।
এর মধ্যে আবার আরেকটি কাজ করে ইউক্রেন সরকার ও প্রিভাতব্যাংক। ২০১৭ সালে ব্যাংক সাবেক মালিকদের পাচার করা অর্থ ফেরত পেতে বিশ্বব্যাপী তাঁদের সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লন্ডনের হাইকোর্টে মামলা করে। দীর্ঘ আট বছর এই মামলা চলার পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে লন্ডনের হাইকোর্ট ব্যাংকের পক্ষে রায় দেন। ফলে কলোমোইস্কি ব্যাংক ফিরে পাওয়ার যে চেষ্টা করেছিলেন, তা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
ইউক্রেন তো ‘অ্যান্টিকলোমোইস্কি ল’ তৈরি করে পুরোনো ব্যাংক মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ করেছে। এখন এই উদাহরণ মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকারও ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন আবার সংশোধন করুক, যাতে পুরোনো মালিকেরা ফিরতে না পারেন। তাহলে আমরাও এই আইনকে ‘অ্যান্টিএস আলম ল’ বলতে পারব।
শওকত হোসেন প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন
মতামত লেখকের নিজস্ব