আরজি কর ধর্ষণ-হত্যা মামলা নতুন করে তদন্তের নির্দেশ
· Prothom Alo

এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভোটে তাঁরা জয়ী হলে আরজি কর ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার আবার করা হবে। তার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হলো। রায় হয়ে যাওয়া মামলাটি আবার তদন্তের নির্দেশ এল উচ্চ আদালত থেকে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ মামলার আবার তদন্তের জন্য সিবিআইকে নতুন করে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি বা সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই কমিটিকে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। এই লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত টিম বা সিট গঠন করা হয়েছে।
Visit moryak.biz for more information.
এর আগে এ হত্যা মামলা নিয়ে সিবিআই ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ একটি প্রতিবেদন আদালতে দিয়েছিল, সেই প্রতিবেদন পর্যাপ্ত নয় জানিয়ে আবার তদন্তের নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তখন ওই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। রাস্তায় নামে চিকিৎসকসহ সর্বস্তরের মানুষ। সমালোচনার মুখে পড়তে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকেও।
ঘটনার পর পুলিশ সঞ্জয় রায় নামের এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়ে বিচারও শুরু হয়। সঞ্জয় রায় আদালতের কাঠগড়ায় থেকে বলেছিলেন, তিনি এই খুনের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি আদালতের রায়ে সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে।
আরজি করে ধর্ষণ ও হত্যা: গাফিলতির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলেন শুভেন্দুতবে এই বিচারে সন্তুষ্ট ছিল না ওই চিকিৎসকের পরিবার, যাকে ‘অভয়া’ নামে ডাকা হয় তখন থেকে। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা আগে থেকে বলে আসছিলেন, তাঁরা ক্ষমতায় গেলে এই মামলার আবার তদন্ত হবে।
ভোটের পর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়েই আগের তদন্তে সংশ্লিষ্ট থাকা রাজ্যের তিন আইপিএস পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন। তাঁরা হলেন কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল এবং অন্য দুই আইপিএস কর্মকর্তা ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও অভিষেক গুপ্তা।
আরজি কর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবনপাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে অভয়ার মা রত্না দেবনাথ পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ তিনজনের বিরুদ্ধেও একটি মামলা করেন। বিজেপির টিকিটে উত্তর চব্বিশ পরগনার পানিহাটি আসনে লড়ে এবার বিপুল ভোটে জয়ী হন রত্না। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে এ হত্যা মামলা নতুন করে প্রাণ পায়। রত্না দেবনাথ বলছেন, মেয়ের এই হত্যার সঙ্গে আরও যাঁরা জড়িত ছিল, তাদের বের করে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর আন্দোলন থামবে না।
নির্বাচনী প্রচারে শুভেন্দু অধিকারী এটাও বলেছিলেন, অভয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করা হবে।
ফলে নতুন তদন্ত রাজ্যের রাজনীতি আবার উত্তপ্ত হওয়ার অনুষঙ্গ তৈরি করছে।
আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার সেই চিকিৎসকের মা এবার ভোটের মাঠে