এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬। বিজ্ঞান: ইলিশ ডিম ছাড়ার সময় মিঠাপানিতে আসে
· Prothom Alo

বিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত উত্তর–প্রশ্ন
প্রশ্ন: পানিতে জলজ উদ্ভিদ না জন্মালে
Visit rouesnews.click for more information.
কী ঘটত?
উত্তর: জলজ উদ্ভিদগুলো একদিকে যেমন সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে, অন্যদিকে শেওলা–জাতীয় জলজ উদ্ভিদগুলো জলজ প্রাণীদের খাদ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করে। পানিতে জলজ উদ্ভিদ না থাকলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী বাঁচতে পারত না।
প্রশ্ন: পানির মানদণ্ড কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: পানির মানদণ্ড নির্ভর করে কোন কাজে ব্যবহার করা হবে, তার ওপর। বিশুদ্ধ পানি বর্ণহীন ও স্বাদহীন হয়। পানি পরিষ্কার, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ও তেজস্ক্রিয়তামুক্ত হতে হবে। পানির pH মান ৬-৮ এর মধ্যে থাকতে হবে।
প্রশ্ন: পানি ঘোলা হলে কী অসুবিধা হয়?
উত্তর: পানি ঘোলা হলে সূর্যের আলো পানির নিচে থাকা উদ্ভিদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, ফলে সালোকসংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে পানিতে থাকা উদ্ভিদের খাবার তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটে, যা তাদের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। আবার সালোকসংশ্লেষণের ফলে যে অক্সিজেন তৈরি হতো, তা বন্ধ হয়ে যায়। পানি ঘোলা হলে মাছ বা অন্য প্রাণী ঠিকমতো খাবার সংগ্রহ করতে পারে না।
প্রশ্ন: পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে কী হয়?
উত্তর: পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে একদিকে যেমন দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায়, অন্যদিকে জলজ প্রাণীর প্রজনন থেকে শুরু করে নানা শারীরবৃত্তীয় কাজেও সমস্যা সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন: আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ ডিম ছাড়ার সময় মিঠাপানিতে আসে কেন?
উত্তর: ইলিশ সামুদ্রিক মাছ হলেও ডিম ছাড়ার সময় মিঠাপানিতে আসে। কারণ, সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ডিম নষ্ট করে ফেলে। ফলে ওই ডিম থেকে আর পোনা মাছ তৈরি হতে পারে না। তাই প্রকৃতির নিয়মেই ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার সময় মিঠাপানিতে আসে।
প্রশ্ন: নদ–নদীর পানি কেন তেজস্ক্রিয়তামুক্ত হতে হবে?
উত্তর: নদ–নদীর পানিতে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকলে তা জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে ক্যানসারের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে। তা ছাড়া এই তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এলে নানা ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধি সৃষ্টি করে। তাই নদ–নদীর পানি তেজস্ক্রিয়তামুক্ত হতে হবে।
প্রশ্ন: পানিবাহিত রোগ কীভাবে ছড়ায়?
উত্তর: মলমূত্র, আবর্জনা ইত্যাদি বর্জ্যের মাধ্যমে পানিবাহিত রোগের জীবাণু ছড়ায়। সেই পানিতে গোসল করলে, পান করলে, খাবার রান্না করলে বা ধুলে অথবা যেকোনোভাবে দূষিত পানির সংস্পর্শে এলে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে জীবাণু সংক্রমিত হয়ে রোগ সৃষ্টি করে।
মো. আবু সুফিয়ান, শিক্ষক
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা