হেদায়েতের পথে কীভাবে অবিচল থাকবেন

· Prothom Alo

পবিত্র কোরআন কেবল কিছু উপদেশবাণীর সংকলন নয়, বরং এটি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী এক নিখুঁত ‘অস্তিত্বতাত্ত্বিক মানদণ্ড’ (এক্সেসটেনশিয়াল ব্যালান্স)।

এই মানদণ্ড মানুষকে দুটি স্পষ্ট ভাগে বিভক্ত করে দেয়—একদল যারা ওহির আলোতে সত্যকে চিনতে পেরেছে, আর অন্যদল যারা মরীচিকার পেছনে ছুটে ভ্রষ্টতার অন্ধকারে হারিয়ে গেছে।

Visit catcross.biz for more information.

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা এই চিরন্তন পার্থক্যের কথা তুলে ধরে বলেছেন, “আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা যে ব্যক্তি সত্য বলে জানে, সে কি ওই ব্যক্তির সমান যে অন্ধ? কেবল বুদ্ধিমানরাই উপদেশ গ্রহণ করে।” (সুরা রাদ, আয়াত: ১৯)

আয়াতের এই গভীর মর্মার্থের আলোকে মানুষের দুটি ধরণ নিচে আলোচনা করা হলো:

সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৩প্রত্যেক মানুষই প্রতিদিন ভোরে উঠে নিজের নফসকে বিক্রি করে; কেউ তাকে (আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে) মুক্ত করে, আবার কেউ তাকে (পাপের মাধ্যমে) ধ্বংস করে।জীবনের প্রকৃত সফলতা কী

অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মুমিন

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর মতে, অন্তর্দৃষ্টি (বাসিরাত) হলো হৃদয়ের এমন এক নূর, যার মাধ্যমে মানুষ অদৃশ্যের সত্যগুলোকে এমনভাবে দেখে যেন তা চোখের সামনে উপস্থিত। ফলে—

  • সত্যের ওপর অটল: তারা নিশ্চিতভাবে জানে যে আল্লাহর কিতাবই পরম সত্য। এই বিশ্বাস তাদের চিন্তায় ও কর্মে এক অনন্য স্থিরতা দান করে।

  • পার্থিব মোহমুক্ত: হাসান বসরি (রহ.) একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন, “যদি দুনিয়া হয় ক্ষণস্থায়ী সোনা আর আখেরাত হয় চিরস্থায়ী মাটির পাত্র, তবুও বুদ্ধিমানের উচিত হবে মাটির পাত্রটিকেই বেছে নেওয়া। অথচ দুনিয়া হলো ক্ষণস্থায়ী মাটি আর আখেরাত হলো চিরস্থায়ী সোনা!” যারা চক্ষুষ্মান, তারা এই ধ্রুব সত্যটি বুঝতে ভুল করে না।

লক্ষ্যহীন অন্ধ সমাজ

এরা সেই দল যাদের চোখের দৃষ্টি সচল থাকলেও হৃদয়ের চোখ বন্ধ। এদের বলা হয় ‘বিপথগামী’ বা মরীচিকার পেছনে ছোটা মানুষ।

  • অন্ধ অনুকরণ ও প্রবৃত্তি: ভুল বুঝাবুঝি, কুসংস্কার ও প্রবৃত্তির গোলামি এদের অন্তরে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে। ফলে তারা হকের আলো দেখলেও তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

  • পথহারা পথিকের মতো: আলো পেছনে ফেলে তারা অন্ধকারের দিকে যাত্রা করে। ফলে জীবনের প্রতিটি মোড়ে তারা হোঁচট খায় এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের মরীচিকায় হারিয়ে যায়।

কোরআনের প্রভাব কতটা শক্তিশালী
যদি দুনিয়া হয় ক্ষণস্থায়ী সোনা আর আখেরাত হয় চিরস্থায়ী মাটির পাত্র, তবুও বুদ্ধিমানের উচিত হবে মাটির পাত্রটিকেই বেছে নেওয়া।

রাসুল (সা.) এই দুটি পথের পরিণাম স্পষ্ট করে বলেছেন, “প্রত্যেক মানুষই প্রতিদিন ভোরে উঠে নিজের নফসকে বিক্রি করে; কেউ তাকে (আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে) মুক্ত করে, আবার কেউ তাকে (পাপের মাধ্যমে) ধ্বংস করে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৩)

হেদায়েতের পথে অবিচল থাকার দোয়া

হেদায়েতের এই পথে পথ চলতে গিয়ে বিচ্যুতি ঘটা স্বাভাবিক। তাই নবীজি একবার আলী (রা.)-কে একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছিলেন, “আল্লাহুম্মাহদিনি ওয়া সাদ্দিদনি” (হে আল্লাহ, আমাকে হেদায়েত দান করুন এবং আমাকে সত্যের ওপর অবিচল রাখুন)।

তিনি আরও বলেছিলেন, হেদায়েত চাওয়ার সময় যেন আমাদের মনে থাকে ‘সঠিক পথের’ কথা এবং অবিচলতা চাওয়ার সময় যেন মনে থাকে লক্ষ্যভেদী ‘নিখুঁত তীরের’ কথা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭২৫)।

সারকথা

মরুর তপ্ত বালুতে পিপাসার্ত পথিক যেমন মরীচিকার পেছনে ছুটে প্রাণ হারায়, ওহির আলো বর্জিত জীবনও তেমনি ব্যর্থ। প্রকৃত সুখ কেবল তাদেরই জন্য, যারা পবিত্র কোরআনকে তাদের চিন্তার মানদণ্ড এবং সুন্নাহকে জীবনের চালিকাশক্তি বানিয়েছে।

আল্লাহ আমাদের সেই বুদ্ধিমানদের (উলুল আলবাব) অন্তর্ভুক্ত করুন যারা উপদেশ গ্রহণ করে।

কোরআন যেভাবে জীবনের সফলতার পথ দেখায়

Read full story at source