কীভাবে আসতে পারে আগামীর ফ্যাসিবাদী কিংবা স্বৈরাচারী সরকার?
· Prothom Alo

কর্তৃত্ববাদী ‘আইনতন্ত্র’ হলো একটি কৌশল, যেখানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতারা আইন ও আইনি প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণকে ভেঙে দেয় এবং আইনসর্বস্বতার আড়ালে ক্ষমতাকে নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করে। লিখেছেন আহমেদ শামীম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতিপূর্বে যারা সরকার গঠন করেছে কিংবা সরকারের শরিক হয়েছে, তারা কেউ স্বৈরাচারী কেউ–বা ফ্যাসিবাদীর অভিধা অর্জন করেছে। সে বাবদে বলা যায়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা কর্তৃত্ববাদী-আনুগত্যপ্রত্যাশী শাসক তৈরির উর্বর ক্ষেত্র।
Visit grenadier.co.za for more information.
ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের মিল হলো এই দুটো ব্যবস্থাই সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী হতে চায়। এদের মধ্যে অমিল আছে বটে, তবে স্বৈরাচারী শাসন থেকে ফ্যাসিবাদী শাসনে উঠে যাওয়ার রাস্তা খুব বেশি দীর্ঘ নয়।
স্বৈরাচারী শাসনের পেছনে যদি উগ্র কোনো মতবাদ কাজ করে এবং সেই মতবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণের বড় একটি অংশ শাসকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তবেই তা ফ্যাসিবাদে পর্যবসিত হয়। ফ্যাসিবাদ মূলত টিকে থাকে জনগণের একটি বড় অংশের রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে অনুকূলে নিয়ে, অন্যদিকে স্বৈরাচারী শাসন টিকে থাকে জনগণের দিক থেকে আসা রাজনৈতিক প্রতিকূলতাকে নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে।
বাস্তব ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিগত মেয়াদকে ফ্যাসিবাদী আমল হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে এরশাদের শেষ মেয়াদকে স্বৈরাচারী শাসনামল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই দুটি আমলের সরকারকে যেহেতু গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নামানো হয়েছে, ফলে এদের অভিধাগুলো নিয়ে বড় কোনো মতবিরোধ দেখা যায় না।
মতভেদ থাকলেও বিএনপি সরকার অতীতে অনেকাংশে কর্তৃত্ববাদী শাসন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল; কিন্তু স্বৈরাচারী শাসন হয়ে ওঠার আগেই তাদের নেমে যেতে হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ জন্মের প্রাক্বালে একটি স্বৈরাচারী সরকারের শরিক ছিল, এবং ফ্যাসিবাদী সরকার গঠনের জন্য তাদের কট্টর মতাদর্শ এবং অনুগত জনগোষ্ঠী দৃশ্যমান রয়েছে। ফলে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী কিংবা স্বৈরাচারী শাসনের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
২.
কীভাবে আসতে পারে আগামীর ফ্যাসিবাদী কিংবা স্বৈরাচারী সরকার? অনেকেই বলে থাকেন বিএনপি যেহেতু বাঙালি জাতীয়তাবাদ কিংবা মুসলিম জাতীয়তাবাদের মাঝে অবস্থান করে, ফলে কোনো চরমপন্থার দিকে গিয়ে উগ্র জাতীয়তাবাদের ধারক–বাহক হওয়ার সম্ভাবনা তাদের কম; যেটা আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতের ক্ষেত্রে বেশি।
বাংলাদেশের অবাঙালি এবং অমুসলমান জাতিগুলোর জন্য যদিও এটা কোনো ভরসার কথা নয়, তবু সংখ্যাধিক্যের যুক্তির খাতিরে বিষয়টিকে পর্যালোচনা করতে পারি।
প্রথমেই বলা দরকার, ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গিয়ে অবসাদবশত জনগণ যদি স্বৈরাচারী শাসনকে অনেক কম দুর্ভোগের শাসন ভাবতে থাকে, সেটাই হবে স্বৈরাচারী শাসনকে ডেকে আনার প্রথম পদক্ষেপ। আর জনগণই যদি এভাবে স্বৈরাচারী শাসনকে ডেকে আনে, তবে স্বৈরাচারী শাসন অচিরে ফ্যাসিবাদী শাসনে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কেননা স্বৈরাচারী শাসনের পেছনে জনভিত্তি থাকলে ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের অভাব হবে না। কিন্তু আপাতত সেটা তত্ত্বীয় সম্ভাবনা, বাস্তব ক্ষেত্রে স্বৈরাচারী শাসন কম দুর্ভোগের নয় এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার একটি স্বৈরাচারী শাসন গড়ে তোলার ঝুঁকির মধ্যে আছে।
হাসিনার পতন হলেও স্বৈরাচারী শাসনের যেসব খুঁটি এখনো অক্ষুণ্নঝুঁকি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপির সরকার গঠন করার পেছনে যেসব নিয়ামক অনুকূলে ছিল এবং আছে সেগুলোই প্রথম এই সরকারকে স্বৈরাচারী হতে উৎসাহিত করবে। নিয়ামকগুলোর মধ্যে দুটি খুব পরিষ্কার—
এক. আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং আওয়ামী লীগ সম্পর্কে জনগণের বড় অংশটির বর্তমান ভীতি। বিএনপি এটাকে চিরস্থায়ী ধরে নিয়ে ফাঁদে পা দিতে পারে।
দুই. রাষ্ট্র সংস্কারের আয়োজন ও অঙ্গীকার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘বজ্র আঁটুনি’র মধ্যে বিশাল ‘ফসকা গেরো’ আছে। সেটা গলে বিএনপি চাইলে সংস্কারের দায় থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নিতে পারে। আপাতদৃষ্টে দলের জন্য সেটা জয় হলেও রাষ্ট্রের জন্য, এমনকি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এটা হবে অপূরণীয় ক্ষতির ব্যাপার।
উপরন্তু, ওই দুটি নিয়ামককে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো শক্ত প্রতিপক্ষ সংসদে উপস্থিত নেই এবং কোনো কার্যকর ব্যবস্থা হাজির নেই সুপ্রিম কোর্ট বা সর্বোচ্চ আদালতে। এই দুটি দুর্বলতা আবার পরস্পর সম্পর্কিত, ফলে তাদের যোগফল হিসেবে দুর্বলতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে।
সংসদে আইন পাস, জবাবদিহির প্রশ্ন ও এমপিদের ‘আনাড়িপনা’৩.
সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইতিমধ্যেই সংস্কার নিয়ে দর–কষাকষিতে ‘সংখ্যালঘু’ বিরোধী দলকে বেকায়দায় ফেলেছে। সংস্কারের যেসব অংশ সরকারের ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ এবং সীমিত করবে, ক্ষমতাসীন সরকার সেগুলো উপেক্ষা করতে চাইছে। যেহেতু এগুলো মৌলিক পরিবর্তনের অংশ, তাই বিদ্যমান সংবিধানের আইনের আলোকে যেকোনো মৌলিক পরিবর্তন তারা সহজেই ঠেকিয়ে দিতে সমর্থ হবে। সুপ্রিম কোর্টও তাদের পক্ষে রায় দিতে বাধ্য হবেন—একই সংবিধানের আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে। এসব উতরিয়ে সংসদে বিরোধী দল সরকারপক্ষকে মৌলিক কোনো পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারবে বলে মনে হয় না। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে।
বিরোধীপক্ষের বড় অংশ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের জন্মের বিপক্ষে ছিল, মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে শত্রুপক্ষকে সহায়তা করেছে, যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কোনো সংস্কারের দাবি করতে যে নৈতিক এবং ঐতিহাসিক ভিত্তি দরকার হয়, সেটা তাদের অনুকূলে নেই। আজ তারা রাজনৈতিক ঘটনাচক্রে প্রধান বিরোধী দল। ফলে তাদের সংস্কারের দাবিটা কেবল রাজনৈতিক দর–কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘সুপার মেজরিটি’র সমস্যা হচ্ছে, সরকার আইনসভার কার্যপ্রণালির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তাদের দলীয় সদস্যদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার চাপে পড়ে। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় সাধারণত সরকারি দলের অতি উৎসাহী কিছু জনপ্রতিনিধির কারণে। সরকারি দলের জনপ্রতিনিধিরা দলে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করার জন্য বিরোধী দলকে সংসদে নানা উপায়ে পর্যুদস্ত করতে থাকে।
উপরন্তু, সংস্কারের অভীষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়া; অন্যদিকে রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে গণতন্ত্র জামায়াতে ইসলামীর ‘প্রথম পছন্দ’ নয়। এ কারণেও জামায়াতপক্ষের সংস্কারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা বিএনপির জন্য সহজ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী দল এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) সংসদ সদস্যরা শুধু বয়সেই তরুণ নয়, আইনি লড়াইতেও অপরিপক্ব। ফলে সংসদে সংস্কারের জন্য সংগ্রাম করে যাওয়ার বিষয়টি বিরোধী দলের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়বে।
এসব সত্ত্বেও বিরোধীদলীয় দুর্বলতা বিএনপির জন্য ‘শাপেবর’ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অর্থাৎ বিএনপি সংসদে বিরোধী দলকে সহজেই অগ্রাহ্য করতে পারবে বলেই জাতীয় সংসদ অচিরেই একটি স্বৈরতান্ত্রিক সংসদে পর্যবসিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। সেটা বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।
এখানে আরও একটি বিষয় বলা দরকার, বিএনপির এই অবস্থানকে সুশীল সমাজের বড় অংশটি সমর্থন জোগাবে। কেননা ঐতিহাসিক কারণেই বাহাত্তরের সংবিধানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি জড়িত, যা সুশীল সমাজের ওই অংশটির মতাদর্শিক জায়গা। তাদের বড় উদ্বেগের বিষয় হলো সংস্কারের নামে না আবার বাহাত্তরের সংবিধানই বাতিল করা হয়।
অধ্যাদেশ: সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সবকিছু করা নয়পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামী লীগের ‘সুপ্ত শক্তি’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো প্রভাব রাখতে সক্ষম। সেই শক্তি বিএনপির মৌলিক সংস্কার বিরোধী অবস্থানকে বিভিন্নভাবে সমর্থন জুগিয়ে যাবে। ফলে সব দিক থেকে তাদের এই সুবিধার জায়গাটি তাদের একটি কর্তৃত্ববাদী ‘আইনতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য করবে।
কর্তৃত্ববাদী ‘আইনতন্ত্র’ হলো একটি কৌশল, যেখানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতারা আইন ও আইনি প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণকে ভেঙে দেয় এবং আইনসর্বস্বতার আড়ালে ক্ষমতাকে নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করে। এ ধরনের নেতারা বিরোধীপক্ষকে সীমিত করতে, নির্বাচনী নিয়মে হস্তক্ষেপ করতে এবং আদালতকে নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের দ্বারা পূর্ণ করতে আইনকে কাজে লাগায়।
কর্তৃত্ববাদী আইনতন্ত্রের অবশ্যম্ভাবী ফলাফল হলো নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র; কেননা একটি আইনসর্বস্ব সংসদ সংবিধানকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বিলোপ করে দেয়। আইনের মারপ্যাঁচে বাঁধা বিরোধী দলের উপস্থিতি আসলে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সংসদের নামে কার্যত সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রকেই বাঁচিয়ে রাখে।
আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন না চাইলে...এখন প্রশ্ন হলো, বর্তমান বিরোধী দল এমন অক্ষম অবস্থায় আটকে থেকেও সংসদের রুটিন কার্যক্রম জারি রাখতে ভূমিকা রাখবে কেন? তাদের কি উপায় নেই? নাকি উপায় আছে, কিন্তু সংসদ ভিন্ন অন্যান্য উপায় তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য কেমন ফল বয়ে আনবে তারা নিশ্চিত নয়।
জামায়াতের সবচেয়ে বড় বিজয় কিন্তু বিগত বিএনপি সরকারের শরিক হওয়া নয়, বরং এবারের সংসদে প্রধান বিরোধী দল হওয়া। সংস্কারের প্রশ্নকে সামনে রেখে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে দর–কষাকষির একটা জায়গায় থাকতে পারবে সংসদে। জামায়াতের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার জন্য কাজ করতে পারবে, যাতে তাদের ব্যক্তিক ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
একই কথা এনসিপির প্রতিনিধিদের জন্যও প্রযোজ্য। ফলে সরকার এবং বিরোধী দল উভয় পক্ষের অবদানের ফলেই একটি মৌলিক সংস্কারের ব্যাপারে সংসদ একটি খালি কলসিতে পরিণত হবে। প্রাণবন্ত আর রসের তর্ক হবে, কিন্তু কাজের কাজ হবে না। তবে তার মানে এই নয়, সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হবে কিংবা উন্নয়ন হবে না। আলবত হবে; কিন্তু সেই উন্নয়নও বর্তমান সরকারকে স্বৈরাচারী হওয়ার পথে সাহায্য করতে পারে। বিষয়গুলোর নজির আন্তর্জাতিক পরিসরে তো আছেই, বাংলাদেশেও বিরল নয়।
৪.
পরিশেষে একটি প্রশ্ন থাকে, তা হচ্ছে বিগত সরকারগুলোর স্বেচ্ছাচারিতার পরিণাম দেখার পরও কেন বিএনপি স্বৈরতান্ত্রিক সংসদের দিকে পা বাড়াবে। বিশেষ করে কর্তৃত্ববাদী সরকারের সুবিধা এবং অসুবিধার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির বেশ কিছু নেতা–নেত্রীর অভিজ্ঞতা আছে। তাঁরা ভালো করেই জানেন একটি নিপীড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুললে সেই ব্যবস্থার পীড়নে নিজেকেও পড়তে হয় কোনো না কোনো দিন। তবু কেন তাঁদের পরিণতি তাঁরা ঠেকাতে পারবেন না?
এর উত্তর খুঁজতে আমরা বিগত সরকারগুলোর কথাও বিবেচনা করতে পারি; সেই সরকারগুলোও জেনেশুনেই কেউ স্বৈরাচারী কেউ ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছিল। রাষ্ট্রব্যবস্থাটাই এমনভাবে গোড়া থেকে গড়ে তোলা হয়েছে যে এখানে যে–ই আসুক সে–ই ‘রাবণ’ হয়ে উঠবে।
বিএনপি কি পুরোনো ক্ষমতাকাঠামো রক্ষা করতে চায়এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থায় ‘টু-থার্ড মেজরিটি’ কার্যত ‘সুপার মেজরিটি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়। ‘সুপার মেজরিটি’র সমস্যা হচ্ছে, সরকার আইনসভার কার্যপ্রণালির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তাদের দলীয় সদস্যদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার চাপে পড়ে। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় সাধারণত সরকারি দলের অতি উৎসাহী কিছু জনপ্রতিনিধির কারণে।
সরকারি দলের জনপ্রতিনিধিরা দলে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করার জন্য বিরোধী দলকে সংসদে নানা উপায়ে পর্যুদস্ত করতে থাকে। এভাবে বিরোধী দলকে পরাস্ত করে দলীয় প্রধানকে যারা প্রভাবিত করতে পারে, তারা ‘গুডবুকে’ নাম লেখায়। এরপর অন্য সব জনপ্রতিনিধিও এই কাজে প্রতিযোগিতা শুরু করে।
সংসদ দখল করেই তারা ক্ষান্ত দিতে পারে না, তাদের নির্বাহী ক্ষমতার হাত একের পর এক আত্মসাৎ করতে থাকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সচিবালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহ, স্থানীয় সরকার ইত্যাদি। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের হাতে তখন আর কিছু করার থাকে না। দেখতে দেখতে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে।
তাই শুরু থেকেই সাবধান থাকা, ভিন্নমতগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দল এবং দেশের জন্য মঙ্গলজনক। ১৫/২০/২৫ বছর পরপর গণ–অভ্যুত্থান করে গণতন্ত্রকে আবার শুরুর লাইনে দাঁড় করানোর এই চক্র থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে।
ড. আহমেদ শামীম ভাষাবিদ এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ক
*মতামত লেখকের নিজস্ব