কড়া রোদে সানস্ক্রিন যেভাবে আমাদের বাঁচায়

· Prothom Alo

ভরদুপুরে মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে ক্রিকেট খেলছ কিংবা সাইকেল নিয়ে অনেকটা পথ ঘুরে এলে। কয়েক ঘণ্টা পর বাড়ি ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই দেখলে, মুখটা রোদে পুড়ে একদম কালচে হয়ে গেছে। ত্বক জ্বলছে। কোনো কোনো জায়গায় হয়তো লাল হয়ে আছে। এই যে রোদে পোড়া, একে বলে সানবার্ন। এর হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই বাসা থেকে বের হওয়ার আগে একটা ক্রিম মাখে। নাম তার সানস্ক্রিন।

কিন্তু এই সাধারণ দেখতে ক্রিমটা কীভাবে এত কড়া রোদের হাত থেকে আমাদের ত্বককে বাঁচায়? এটা কি কোনো জাদুর প্রলেপ? মোটেও না! এর পেছনে লুকিয়ে আছে একটুখানি বিজ্ঞান। চলো, সানস্ক্রিনের ভেতরের সেই বিজ্ঞানটুকুই আজ সহজ করে জেনে নিই।

Visit mchezo.life for more information.

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মিগুলো কেমন বা সানস্ক্রিন কীভাবে কাজ করে, তা জানার আগে আমাদের বুঝতে হবে রোদ কেন ত্বকের ক্ষতি করে। সূর্য থেকে পৃথিবীতে যে আলো আসে, তার মধ্যে একটা বিশেষ ধরনের অদৃশ্য রশ্মি থাকে। এর নাম আলট্রাভায়োলেট রশ্মি বা অতিবেগুনি রশ্মি। এই অতিবেগুনি রশ্মি মূলত দুই রকমের হয়—ইউভিএ এবং ইউভিবি।

মাংস ছাড়া আর কী দিয়ে প্রোটিনের চাহিদা মেটানো যায়

ইউভিএ রশ্মি আমাদের ত্বকের অনেক গভীরে ঢুকে যায়। এটি মেঘ ভেদ করেও আসতে পারে। এই রশ্মি ত্বকের সজীবতা নষ্ট করে দেয়। ফলে অল্প বয়সেই চামড়ায় ভাঁজ পড়ে যায়। আর ইউভিবি রশ্মি ত্বকের ওপরের স্তরকে পুড়িয়ে ফেলে। একেই আমরা বলি সানবার্ন। এই রশ্মিগুলোর কারণে ত্বকে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগও হতে পারে।

এই ক্ষতিকর রশ্মিগুলোর হাত থেকে বাঁচাতেই সানস্ক্রিন একটা চমৎকার ঢালের মতো কাজ করে। বাজারে মূলত দুই ধরনের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। এই দুই ধরনের সানস্ক্রিনের কাজ করার প্রক্রিয়াও আলাদা। এক ধরনের সানস্ক্রিনকে বলা যায় ফিজিক্যাল সানব্লক। এটা অনেকটা রঙের প্রলেপের মতো কাজ করে। এ ধরনের সানস্ক্রিনের ভেতরে জিংক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইডের মতো সাদা রঙের কিছু অজৈব কণা থাকে। এই কণাগুলো মেশানো থাকে ঘন তেলের মধ্যে।

তুমি যখন এই সানস্ক্রিন মুখে মাখো, তখন সেটা তোমার ত্বকের ওপর একটা অস্বচ্ছ দেয়াল তৈরি করে ফেলে। সূর্যের আলো এবং অতিবেগুনি রশ্মি যখন এই দেয়ালে এসে পড়ে, তখন এই কণাগুলো আয়নার মতো সেই রশ্মিগুলোকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে প্রতিফলিত করে। যেহেতু এরা সাধারণ আলো ও অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিফলিত করে, তাই এই সানস্ক্রিন মাখলে মুখটা একটু সাদাটে দেখায়।

আরেক ধরনের সানস্ক্রিন হলো কেমিক্যাল সানস্ক্রিন। এগুলো মাখলে মুখে কোনো সাদাটে ভাব থাকে না, একদম স্বচ্ছ দেখায়। কারণ এগুলো সাধারণ আলোকে ত্বকের ভেতর দিয়ে যেতে দেয়, কিন্তু আটকে দেয় শুধু ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে।

পিপাসা পেলে গাছেরাও কাঁদে

এ ধরনের সানস্ক্রিনে ব্যবহার করা হয় বিশেষ কিছু জৈব যৌগ। যেমন ধরো, ফিনাইলবেনজিমিডাজল সালফোনিক অ্যাসিড। নামটা একটু খটমটে হলেও এর কাজটা কিন্তু দারুণ! এটি ত্বকের ওপর কোনো দেয়াল বা আয়না তৈরি করে না, বরং এটি স্পঞ্জের মতো কাজ করে। যখন ইউভিবি রশ্মি ত্বকে আঘাত করতে আসে, তখন এই রাসায়নিক যৌগগুলো সেই ক্ষতিকর রশ্মিকে নিজেদের ভেতরে শুষে নেয়। এরপর সেই রশ্মিকে খুব সামান্য তাপে পরিণত করে শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে রশ্মিটি আর ত্বকের কোষগুলোকে পোড়াতে পারে না।

বর্তমানে বাজারে যেসব ভালো মানের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়, সেগুলোয় এ দুই ধরনের উপাদানেরই একটা মিশ্রণ থাকে। অর্থাৎ একই ক্রিমের ভেতর ফিজিক্যাল সানব্লকের অজৈব কণা এবং কেমিক্যাল সানস্ক্রিনের জৈব যৌগ মেশানো থাকে। ফলে এটা ক্ষতিকর ইউভিএ এবং ইউভিবি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

খেয়াল করলে দেখবে, সানস্ক্রিনের গায়ে ‘এসপিএফ’ লেখা থাকে। এর পুরো নাম সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর। এটি বোঝায়, একটি সানস্ক্রিন ইউভিবি রশ্মি থেকে তোমাকে কতটা সুরক্ষা দেবে। ধরো, তুমি কোনো সানস্ক্রিন ছাড়া রোদে গেলে ১০ মিনিটে তোমার ত্বক পুড়তে শুরু করে। তুমি যদি ‘এসপিএফ ৩০’ লেখা একটি সানস্ক্রিন মাখো, তবে সেটি তোমার ত্বক পুড়তে ৩০ গুণ বেশি সময় নেবে। মানে প্রায় ৩০০ মিনিট তুমি রোদে পোড়ার হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবে!

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে প্রভাব পড়েছে

অনেকে ভাবে, আকাশে মেঘ থাকলে বা শীতকালে বোধ হয় সানস্ক্রিন মাখার দরকার নেই। এটা কিন্তু মস্ত বড় ভুল! সূর্যের আলো মেঘে ঢাকা থাকলেও অতিবেগুনি রশ্মির প্রায় ৮০ শতাংশই মেঘ ভেদ করে পৃথিবীতে চলে আসে।

তাই রোদ থাকুক বা না থাকুক, দিনের বেলা বাইরে গেলে সানস্ক্রিন মাখা জরুরি। মনে রাখবে, সানস্ক্রিন একবার মাখলেই কিন্তু সারা দিনের জন্য ছুটি নয়। ঘামে বা পানিতে ভিজে গেলে এর প্রভাব কমে যায়। তাই বাইরে থাকলে প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর আবার সানস্ক্রিন মেখে নেওয়া উচিত।

তাই পরেরবার কড়া রোদে মাঠে খেলতে যাওয়ার আগে বা বাইরে ঘুরতে বের হলে নিজের ত্বকের ওপর এই সানস্ক্রিন মেখে নিতে ভুলো না যেন! সূত্র: বিবিসি সায়েন্স ফোকাস, আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ও স্কিন ক্যানসার ফাউন্ডেশন

মাইগ্রেনের ব্যথা কেন হয়

Read full story at source