আইএমএফের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ২০০ কোটি ডলার চায় বাংলাদেশ

· Prothom Alo

অর্থসংকটে পড়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বাংলাদেশ নতুন করে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার পাওয়ার আশা করছে। সংস্থাটির র‍্যাপিড ফাইন্যান্সিং ইনস্ট্রুমেন্ট (আরএফআই) থেকে বাংলাদেশ এ অর্থ চায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়ে এসেছেন।

Visit betsport24.es for more information.

এ ব্যাপারে কিছুদিনের মধ্যেই আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আরএফআই হলো আইএমএফের সদস্যদেশগুলোকে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত অর্থসহায়তা প্রদানের একটি ব্যবস্থা। সাধারণত অতিমারি, বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা এলে অথবা হঠাৎ পণ্যমূল্য বেড়ে গেলে সদস্যদেশগুলো আইএমএফের কাছে আরএফআই থেকে অর্থ চায়। সংস্থাটি তখন পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি, অর্থাৎ কোনো শর্ত ছাড়া বা শিথিল শর্তে সদস্যদেশগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঋণ দেয়।

অর্থ বিভাগ বলছে, ২০২০ সালে কোভিড-২০১৯ অতিমারির সময় আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ ৭৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা নিয়েছিল। এর মধ্যে আরএফআইয়ের অংশ ছিল ২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। বাজেট–ঘাটতি পূরণ, স্বাস্থ্য খাতে জরুরি ব্যয়, অর্থনীতিতে চাপ কমানোর পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ওই অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। বাকি ৪৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার নেওয়া হয়েছিল আইএমএফের আরেকটি ব্যবস্থা র‍্যাপিড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (আরসিএফ) থেকে।

বাংলাদেশের মতো পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, জর্ডান, কেনিয়া, ইকুয়েডর, তিউনিশিয়া প্রভৃতি দেশও ২০২০ সালে আরএফআই থেকে ঋণ নিয়েছিল। আরএফআই থেকে নেওয়া ঋণের সুদহার প্রায় শূন্য থাকে। অনেক সময় এ হার থাকে নামমাত্র। তবে আরসিএফের সুদের হার ২–৩ শতাংশ হয়।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এবারের বসন্তকালীন বৈঠকে আইএমএফের সঙ্গে চলমান ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি থেকে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বৈঠক শেষে দেশে ফিরে ১৯ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আবার আলোচনা হবে। তবে ঋণ কর্মসূচিটি আওয়ামী লীগের সময়ের। সেখানে যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলোর কিছু বিএনপি সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য না-ও হতে পারে। আইএমএফের কোনো শর্ত যদি জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে বাধা হয়, সে সিদ্ধান্ত বিএনপি সরকার নেবে না।

আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। মাঝখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের জুনে ৮০ কোটি ডলার বেড়ে ঋণ কর্মসূচির আকার ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। সংস্থাটি থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার। বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার, যা থেকে ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরে, কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। তখন সরকার আগামী জুনে বা জুলাইয়ে পাওয়ার আশা করেছিল। সেটিও নাকি নিশ্চিত হয়।

অর্থ বিভাগের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, ধারণা করা হচ্ছিল, মে মাসে আইএমএফ মিশন আসবে। এখন মনে হচ্ছে, জুনে বাজেট ঘোষণার আগে তারা আসছে না। মিশন না এলে সংগত কারণেই পর্যালোচনা হবে না। আর তা না হলে আইএমএফের পর্ষদে প্রস্তাব উঠবে না, কিস্তিও মিলবে না।

জানা গেছে, কিস্তি পাওয়ার সঙ্গে মোটাদাগে তিনটি বিষয় জড়িত। এগুলো হলো রাজস্ব খাতের সংস্কার, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও পুরোপুরি বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় হার চালু করা। আইএমএফ চাইলে কিস্তি দেওয়ার আগে এসব শর্তে ছাড় বা পূরণের সময়সীমা বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের অর্থ দরকার, এটা ঠিক। ফলে আনুষ্ঠানিক চিঠি ইতিমধ্যে চলে যাওয়ার কথা। আর আশা তো সরকার করতেই পারে এবং অর্থ পাওয়া গেলে তা আরও ভালো। দেখতে হবে যে তা পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু। কারণ, অনেক দেশ এখন সংকটে আছে। আইএমএফের বাজেট কিন্তু সীমিত।’

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, আশা হচ্ছে আশা, কোনো কৌশল নয়। চলমান কর্মসূচি বজায় থাকার আলোচনাও আছে। চলমান কর্মসূচির শর্তপূরণ এড়িয়ে গিয়ে সরকার আরএফআই থেকে অর্থ পাওয়ার জন্য কতটা যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারবে এবং আইএমএফ তা কতটুকু মেনে নেবে, সেটি একটি বড় প্রশ্ন।’

Read full story at source