নন্দিনীকে নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ‘চা গরম’–এ

· Prothom Alo

চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘চা গরম’–এর ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে ৯ এপ্রিল। যা দেখে স্পষ্টই বোঝা যায় আইরিন (সাফা কবির) একজন চিকিৎসক। তিনি চা–বাগানে যান সেখানকার মানুষদের চিকিৎসা দিতে। তাঁর সঙ্গে প্রথম থেকেই রবিন (রেজওয়ান পারভেজ) নামের এক চরিত্রকে দেখা যায়। ধীরে ধীরে আইরিনের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে নন্দিনী (সারাহ জেবীন অদিতি), মিঠু (পার্থ শেখ )সহ অনেকে। কিন্তু কেন? কীভাবে তাঁদের একসঙ্গে হওয়া? জানা যাবে ‘চা গরম’ ফিল্মে। ট্রেলারের কিছু দৃশ্য এ সংলাপ দেখে–শুনে বুঝতে কষ্ট হয় না যে কিছু মানুষ কতটা সুবিধাবঞ্চিত এবং মেধা থাকা সত্ত্বেও তাদের স্বপ্ন আলো পায় না। আসলেই কি পায় না? নাকি পায়? ‘চা গরম’ ফিল্মে হয়তো এগুলো জানা যাবে।

Visit h-doctor.club for more information.

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে ‘চা গরম’ ফিল্মটি। ১৩ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে দর্শকরা এটি দেখতে পারবেন। সাইফুল্লাহ রিয়াদের গল্প ও চিত্রনাট্যে ছবিটি পরিচালনা করেছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত। পরিচালক আগেই বলেছিলেন, চা–বাগানকে ব্যাকড্রপ হিসেবে নয় বরং এর ভেতরের কিছু বিষয় তুলে আনার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।

শঙ্খ দাশগুপ্ত বলেন, ‘রিসার্চ, গল্প ও চিত্রনাট্যের জন্য আমরা কুলাউড়াতে চা–বাগানে গিয়েছিলাম। আমরা তো আসলে চা–বাগান সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানি না। সারফেস লেভেলে শ্রমিকদের বেতন, শিক্ষা পায় না, মেডিক্যাল ফ্যাসিলিটিজ পায় না এগুলোই জানি। এগুলো ছাড়া তাদের মধ্যে একধরনের হ্যাপিনেসও আছে। এ রকম অনেক শ্রমিককে আমরা পেয়েছি যে আসলে সারা জীবন এই চা–বাগানেই থেকে যেতে চায়, কারণ এটাতেই সে খুশি। এমন শ্রমিকদের সঙ্গেও আমরা মিট করেছি, যার জীবনে কোনো দুঃখ নেই, কারণ তার কাছে কেউ টাকা পায় না। সো আমরা আসলে দুই দিকের গল্পই বলার চেষ্টা করেছি। সঙ্গে মিথ, রিচুয়াল তো আছেই।’

‘চা গরম’–এর দৃশ্য। চরকির সৌজন্যে

আইরিন চরিত্রের অভিনেত্রী সাফা কবিরের মতে, ‘চা গরম’ মূলত সেইসব মানুষের গল্প, যারা সমাজের প্রান্তে থেকে প্রতিদিন লড়াই করে যাচ্ছে, কিন্তু যাদের কণ্ঠ আমরা খুব কমই শুনি। অভিনেত্রী বলেন, ‘এই গল্পের মাধ্যমে আমরা প্রান্তিক শ্রমিকদের বাস্তবতা এবং সংগ্রামকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, যাতে দর্শক তাদের আরও কাছ থেকে বুঝতে পারে। একই সঙ্গে, এটি সমতার একটি গল্প, একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। এখানে একটি খুব সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আছে—মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। এই গল্পে আবেগ আছে, সংগ্রাম আছে, হাস্যরস আছে এবং আছে একে অপরের জন্য লড়াই করার শক্তি। “চা গরম” এমন একটি কাজ, যা দর্শকদের ভাবাবে এবং কিছুটা নাড়িয়ে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ট্রেলারে নন্দিনী চরিত্রটিকে নিয়ে কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার উত্তর নিশ্চয়ই ফিল্মে পাওয়া যাবে। চরিত্রটি নিয়ে সারাহ জেবীন অদিতি বলেন, ‘যদি এককথায় বলি, নন্দিনী কলেজ পাস করা তরুণী যে নিজেই জানত না সে কতটা শক্তিশালী। “চা গরম” ফিল্মে তার এই জার্নিটা দেখা যাবে। গল্পটি চা–বাগানের মানুষদের, তাদের জীবনযাপন, সংগ্রামের অনেক কিছু এখানে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। নন্দিনী চরিত্রটি অনেক চ্যালেঞ্জিং। আমাকে নতুন ঢঙে ভাষার ব্যবহার ও উচ্চারণ রপ্ত করতে হয়েছে। শুটিং শেষে চা–বাগানের মানুষগুলোকে ছেড়ে আসার সময় আমি খুব ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম।’

‘চা গরম’–এর পোস্টার থেকে। চরকির সৌজন্যে

চা–শ্রমিকদের একজন হয়ে অভিনয় করেছেন রেজওয়ান পারভেজ, তাঁর চরিত্রের নাম রবিন চাঁদ মুর্মু। লোকমুখে সহজ-সরল মানুষের যেই উপমাগুলো শুনে থাকি, রবিন হচ্ছে তার জলজ্যান্ত একটা উদাহরণ, জানান রেজওয়ান পারভেজ। চরিত্রটির মধ্যে সরলতা, সততা, ইমোশন আছে, ক্রোধও আছে। রেজওয়ান পারভেজ বলেন, ‘চা–শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে রবিনকে এখানে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। আমি যত দূর দেখেছি বা চা–বাগানে যাঁরা কাজ করেন বা চা–শ্রমিক যাঁরা আছেন, ওনাদের এত বেশি চাহিদা নেই, অল্পতেই তারা তুষ্ট থাকে।’

চা–বাগানের অজানা জীবনের খোঁজ নিয়ে ‘চা গরম’

পার্থ শেখ অভিনয় করেছেন মিঠু চরিত্রে। চরিত্রটি খুব কেয়ারলেস, ফ্রেন্ড সার্কেল মেইনটেইন করে, তার কাছে সব ধরনের সমস্যার সমাধান আছে। গল্প নিয়ে পার্থ শেখ বলেন, ‘গল্পের দর্শনটা আসলে চা–গাছেই লুকিয়ে আছে। মাথা ছিঁড়ে না ফেললে কিন্তু চা–গাছ আরও অনেক বড় হয়। কিছু ফল পাওয়ার জন্য সেটাকে কখনো বড় হতে দেওয়া হয় না।’

গল্পে আরও আছেন এ কে আজাদ সেতু। চরকি ও অক্সফ্যাম যৌথ প্রযোজনায় ছবিটি তৈরি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায়। ছবিটির সঙ্গে যুক্ত আছে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি।

Read full story at source