খালের দুই পাড় থেকে নির্বিচার বালু তুলছেন ইউপি চেয়ারম্যান, লোকালয় প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

· Prothom Alo

গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে সরু খাল। সেই খালের একটি স্থানে বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে পানি। বাঁধের কাছে শ্যালো মেশিন বসিয়ে তোলা হচ্ছে বালু। কেবল খাল নয়, এরই মধ্যে খালের দুই পাড়ে চরের জমি থেকেও নির্বিচার বালু তোলা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে খালের পাড় ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

Visit afsport.lat for more information.

নির্বিচার যে খাল থেকে বালু তোলা হচ্ছে, সেটির নাম সরই খাল। খালটি অবস্থিত চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বেই অবৈধভাবে খাল থেকে বালু তোলা হচ্ছে।

খালের পাড়ের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা যায়। বালু তোলার সুবিধার্থে খালে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখা হয়েছে। বাঁধের নিচে পানির পরিমাণ কম। খালের দক্ষিণ পাড়ের অন্তত ৪০ শতক জায়গাজুড়ে গভীর গর্ত করে বালু তোলা হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি বালুর স্তূপও দেখা যায়।

দুই পাশে সবুজ গাছগাছালি ও লতাপাতায় আচ্ছাদিত খালটি এই অঞ্চলের কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বালু তোলার কারণে এর দুই পাড়ের সবুজ গাছগাছালিও বিলীন হচ্ছে। বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার গ্রামীণ সড়ক।

খালে বালু তোলার জন্য বাঁধ দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে তোলা

সরই খালটি পুটিবিলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড নয়াপাড়া এলাকায়। লোহাগাড়া উপজেলা সদর থেকে দরবেশ হাট ডিসি সড়ক ধরে আট কিলোমিটার দক্ষিণে পুটিবিলা এম চর হাটবাজার। সেখান থেকে একই সড়ক ধরে পূর্ব দিকে পাঁচ কিলোমিটার এগোলেই গৌড়স্থান গজালিয়া দিঘির পাড় এলাকা। ওই এলাকা থেকে সিকদারপাড়া সড়ক নামে একটি সরু সড়ক ধরে দক্ষিণে আরও দেড় কিলোমিটার গেলেই সরই খাল।

গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, খালের দক্ষিণ পাড়ে দুটি যন্ত্র বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এরপর ছোট ট্রাকে বালুগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতি ট্রাক বালু বিক্রি করা হচ্ছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়।

পেয়ার মিয়া, সদস্য, পুটিবিলা ইউনিয়ন।শুধু একটি স্থান নয়, ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা থেকেই বালু তোলা হচ্ছে। আমরা চাই, বালু তোলা বন্ধ হোক। প্রশাসন চাইলে এটি বন্ধ করা সম্ভব।

খালের পাড়ের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা যায়। বালু তোলার সুবিধার্থে খালে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখা হয়েছে। বাঁধের নিচে পানির পরিমাণ কম। খালের দক্ষিণ পাড়ের অন্তত ৪০ শতক জায়গাজুড়ে গভীর গর্ত করে বালু তোলা হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি বালুর স্তূপও দেখা যায়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে সরেজমিনে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দা জানান, পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল বালু তোলার সঙ্গে জড়িত। এভাবে বালু তোলা অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে খালের পাড় ভেঙে পাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং নিকটবর্তী বসতবাড়িও প্লাবিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাসিন্দারা।

এলাকাবাসী জানান, বালু তোলার যন্ত্রের শব্দে দিনরাত অতিষ্ঠ থাকতে হয় বাসিন্দাদের। তা ছাড়া বালু পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়কও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বালু তোলার সঙ্গে প্যানেল চেয়ারম্যান ইকবালের জড়িত থাকার কথা জানান পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পেয়ার মিয়াও। তিনি বলেন, ‘শুধু একটি স্থান নয়, ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা থেকেই বালু তোলা হচ্ছে। আমরা চাই, বালু তোলা বন্ধ হোক। প্রশাসন চাইলে এটি বন্ধ করা সম্ভব।’

নির্বিচারে বালু তোলার কারণে বর্ষা মৌসুমে সরই খালের পাড় ভেঙে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি প্লাবিত হতে পারে বলে শঙ্কা এলাকাবাসীর। গতকাল দুুপুরে তোলা

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল আগে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। তবে তাঁর কোনো পদপদবি নেই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি সরাসরি সাক্ষাতে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, অবৈধভাবে খাল থেকে বালু তোলার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Read full story at source