প্রাইম ব্যাংকের রেকর্ড মুনাফা, নগদ লভ্যাংশ দেবে ২৯০ কোটি টাকার

· Prothom Alo

গত বছর রেকর্ড মুনাফা করেছে বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংক। গত বছর শেষে ব্যাংকটির মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১০ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের চেয়ে ১৬৫ কোটি টাকা বা ২২ শতাংশ বেশি। রেকর্ড এই মুনাফার পর গত বছরের জন্য শেয়ারধারীদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকটি।

গতকাল রোববার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। একই সভা থেকে গত বছরের জন্য শেয়ারধারীদের লভ্যাংশও ঘোষণা করা হয়। আর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী, আজ সোমবার আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য ও লভ্যাংশের খবর বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়। ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে ব্যাংকটির মুনাফা ও লভ্যাংশ সম্পর্কে জানা যায়।

Visit h-doctor.club for more information.

ব্যাংকটি জানিয়েছে, গত বছর শেষে সব ধরনের খরচ ও কর বাদ দেওয়ার পর ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ৭ টাকা ৮৪ পয়সা। তাতে বছর শেষে ব্যাংকটির মুনাফা দাঁড়ায় ৯১০ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৬ টাকা ৩১ পয়সা। তাতে ওই বছর শেষে ব্যাংকটির মুনাফা দাঁড়িয়েছিল ৭৪৫ কোটি টাকায়।

প্রাইম ব্যাংক–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকটি গত বছর শেষে যে মুনাফা করেছে, তা ব্যাংকটির যাত্রা শুরুর পর সর্বোচ্চ। ১৯৯৫ সালে ব্যাংকটি যাত্রা শুরু করে। গত বছর ৩০ বছর পূর্ণ করেছে ব্যাংকটি।

ব্যাংকটির গত কয়েক বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে ব্যাংকটির মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৮৩ কোটি টাকা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই মুনাফা বেড়ে এখন হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। সেই হিসাবে মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মুনাফাও প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।

এদিকে গত বছরের জন্য ব্যাংকটি যে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। ঘোষিত এই লভ্যাংশ বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমে অনুমোদিত হলে তাতে নগদ লভ্যাংশ বাবদ কোম্পানিটি গত বছরের মুনাফা থেকে শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করবে ২৯০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বোনাস লভ্যাংশ হিসেবে প্রতি ১০০ শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারধারীদের দেওয়া হবে ৫টি শেয়ার। তবে এই বোনাস লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর। যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া যায়, তবে এই বোনাস শেয়ার বিতরণ করা হবে। পরে এসব শেয়ার বিক্রি করেও বাজার থেকে মুনাফা পাবেন শেয়ারধারীরা।

কোম্পানিটি গত বছরের জন্য যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পাবেন ব্যাংকটির উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা। কারণ, তাঁদের হাতেই ব্যাংকটির সর্বোচ্চ পরিমাণ শেয়ার রয়েছে। ঘোষিত ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ বাবদ ব্যাংকটির উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা পাবেন ১০৯ কোটি টাকা। কারণ, গত ফেব্রুয়ারির হিসাবে ব্যাংকটির শেয়ারের সাড়ে ৩৭ শতাংশের মালিকানা রয়েছে তাঁদের হাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পাবে ব্যাংকটির শেয়ারের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। গত ফেব্রুয়ারি শেষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ছিল ব্যাংকটির সাড়ে ৩৪ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিকানা। যার বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১০০ কোটি টাকার লভ্যাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পাবেন ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গত ফেব্রুয়ারি শেষে তাঁদের হাতে ছিল ব্যাংকটির শেয়ারের প্রায় ২১ শতাংশের মালিকানা। যার বিপরীতে তাঁরা নগদ লভ্যাংশ বাবদ পাবেন ৬০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ব্যাংকটির শেয়ারের বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন ২০ কোটি টাকার নগদ লভ্যাংশ। কারণ, ফেব্রুয়ারি শেষে ব্যাংকটির শেয়ারের ৭ শতাংশের বেশি ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

Read full story at source