আদিম ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা

· Prothom Alo

মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্বের এক রহস্যময় অধ্যায় উন্মোচনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘদিনের তাত্ত্বিক ধারণা প্রাইমরডিয়াল ব্ল্যাকহোল (পিবিএইচ) বা আদিম ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্বের প্রথম প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছেন মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরির (এলআইজিও) সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আদিম ব্ল্যাকহোলটির সন্ধান পেয়েছেন তাঁরা।

সাধারণত ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হয় বিশাল কোনো নক্ষত্রের মৃত্যুর পর তার মহাকর্ষীয় পতনের ফলে। কিন্তু প্রাইমরডিয়াল ব্ল্যাকহোল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পরবর্তী এক সেকেন্ডের মধ্যে উপপারমাণবিক পদার্থের অতিঘন পকেট থেকে এগুলোর সৃষ্টি হয়েছিল। এই ব্ল্যাকহোল তৈরি হতে কোনো নক্ষত্রের প্রয়োজন হয়নি।

Visit newsbetting.bond for more information.

এলআইজিগো মূলত মহাকাশে ভেসে আসা মহাকর্ষীয় তরঙ্গ বা গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ শনাক্ত করে। যখন দুটি ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষ হয়, তখন মহাকাশ-কাল বা স্পেস-টাইমে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞানী আলবার্তো মাগারাগিয়া এবং নিকো ক্যাপেলুটি এলআইজিওর শনাক্ত করা এস২৫১১১২সিএম নামক একটি সংকেত বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, সেখানে সংঘর্ষে লিপ্ত একটি বস্তুর ভর আমাদের সূর্যের ভরের চেয়েও কম। এ বিষয়ে নিকো ক্যাপেলুটি বলেন, নক্ষত্রের পতনের ফলে সৃষ্ট ব্ল্যাকহোলগুলোর ভর সূর্যের ভরের কয়েক গুণ থেকে শুরু করে কোটি কোটি গুণ পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু প্রাইমরডিয়াল ব্ল্যাকহোলের ভর সাধারণত অনেক কম হয়। সূর্যের চেয়ে কম ভরের একটি কৃষ্ণগহ্বর পাওয়ার অর্থ হলো তা নক্ষত্র থেকে তৈরি হয়নি, আদি মহাবিশ্বের কোনো প্রক্রিয়া থেকে জন্মেছে।

আদিম ব্ল্যাকহোল শনাক্তের ফলে বিজ্ঞানের আরেকটি বড় রহস্য ডার্ক ম্যাটারের ব্যাখ্যা পাওয়া সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মহাবিশ্বের ভরের প্রায় ৮৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার, যা আমরা দেখতে পাই না কিন্তু এর মহাকর্ষীয় প্রভাব অনুভব করা যায়। তাত্ত্বিকভাবে মনে করা হয়, মহাবিশ্বের শুরুর দিকে বিপুলসংখ্যক প্রাইমরডিয়াল ব্ল্যাকহোল তৈরি হয়েছিল, যা বর্তমানে ডার্ক ম্যাটারের অধিকাংশ অংশ দখল করে থাকতে পারে।

গবেষণার সময় বিজ্ঞানীরা এলআইজিওর মাধ্যমে ২০১৫ সাল থেকে সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে গাণিতিক মডেল মিলিয়ে দেখেছেন, এ ধরনের সাবসোলার ব্ল্যাকহোল মহাবিশ্বে অত্যন্ত বিরল, যা লিগো-র পর্যবেক্ষণের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। তবে এখনই এটিকে চূড়ান্ত প্রমাণ বলতে নারাজ বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানী ক্যাপেলুটি বলেন, অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে। যদিও চূড়ান্ত নিশ্চয়তার জন্য আমাদের এ ধরনের আরও কয়েকটি সংকেত শনাক্ত করতে হবে। ২০৩৫ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইন্টারফেরোমিটার স্পেস অ্যানটেনা উৎক্ষেপণ করা হলে এই রহস্যের সমাধান আরও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

Read full story at source