প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের নাম ব্যবহার করে খেয়াঘাট দখল, ভিডিও ভাইরাল

· Prothom Alo

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাট দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের দাবি, গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনার সময় দখলকারী ব্যক্তিরা খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপকসহ ইজারাদারের লোকজনকে মারধর করে ক্যাশ টেবিলে থাকা টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

Visit arroznegro.club for more information.

এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দখলে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা এবারের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু দখলের সময় তাঁরা স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের নাম ব্যবহার করেছেন।

হামলার শিকার খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপক দীপু সাহা জানান, স্থানীয় সোহেল আকন ও তালেবের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক ঘাটে এসে তাঁকে ও টোল আদায়কারী অন্যান্য ব্যক্তিদের মারধর করেন। পরে সারা দিনের টোল আদায়ের প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাঁদেরকে ঘাট থেকে বের করে দেওয়া হয়।

দীপু সাহা বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছালে তাঁরা আবার ঘাটে আসেন। কিন্তু দখলকারী ব্যক্তিরা আবার হামলা করলে নিরাপত্তার কারণে তাঁরা সেখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে খেয়াঘাটটি দখলকারী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তাঁরা টোল আদায় করছেন। তিনি জানান, হামলার ঘটনায় আহত হয়ে তাঁদের চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

খেয়াঘাটের ইজারাদার শিবু লাল দাস বলেন, জেলা পরিষদ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে তিনি হরিদেবপুর খেয়াঘাটের ইজারা পেয়েছেন, যার মেয়াদ আগামী ৩০ চৈত্র পর্যন্ত রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে দখলকারী ব্যক্তিরা তাঁর লোকজনকে মারধর করে টোলের টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঘাট দখল করে নেন।

শিবু লাল অভিযোগ করেন, ঘটনার পর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান সোহেল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও জেলা পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা এবং গলাচিপা থানার পুলিশকে জানিয়েছেন। কিন্তু দখলকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ বুধবার দুপুরেও দখলকারী ব্যক্তিরা ঘাট থেকে টোল আদায় করছে বলে তিনি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে খেয়াঘাট দখলের নেতৃত্বে থাকা সোহেল আকন বলেন, জনগণের স্বার্থে মন্ত্রী মহোদয় (নুরুল হক) খাস আদায়ের মাধ্যমে পাঁচ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছেন। তাই স্থানীয় মাঝিরা সেই অনুযায়ী ভাড়া নিচ্ছেন। মন্ত্রী এলেই এ বিষয়ে নির্দেশে দিয়েছেন কি না, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সোহেল আকন সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।

খেয়াঘাট দখলে গলাচিপা ছাত্রঅধিকার পরিষদের তরিকুল ইসলাম (মুন্না) ও তাঁর লোকজনও জড়িত আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে তরিকুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে গলাচিপা ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি আরিফ বিল্লাহ জানান, তিনি ঘটনা শুনে ছাত্রঅধিকারের তরিকুলের কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তরিকুল দাবি করেছেন, ঘটনায় সময় তিনি অন্য একটি কাজের খেয়াঘাটে ছিলেন, খেয়াঘাট দখলের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের নদী পারাপারে ভোগান্তি না হয়। খেয়াঘাটটি যেহেতু জেলা পরিষদের অধীন, তাই টোল আদায়ের বিষয়ে জেলা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান (সোহেল) প্রথম আলোকে জানান, ইজাদার শিবু লাল দাস জেলা পরিষদের বৈধ টোল আদায়কারী হিসেবে নির্ধারিত ভাড়া নিচ্ছেন। তাঁর ইজারার মেয়াদ ৩০ চৈত্র পর্যন্ত বহাল। দখলের বিষয়টি ইজারাদার তাঁকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ও জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করবেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘খেয়াঘাট দখলকারী ব্যক্তিরা নির্বাচনের আগে আমার বিরোধিতা করেছেন, পরে আবার বিভিন্ন বিষয়ে আমার কাছে এসেছেন। আমি তাঁদের স্পষ্ট জানিয়েছি, আইনের বাইরে কোনো কিছু করা যাবে না। কেউ আমার বা আমার দলের নাম ব্যবহার করে অন্যায় করলে তার দায়ভার আমি নেব না।’

Read full story at source