আশুলিয়ার ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যায় প্রত্যেক আসামি সচেতনভাবে অংশ নেন

· Prothom Alo

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। ৫৯২ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়েছে, এ মামলায় প্রত্যেক আসামি সচেতনভাবে এই অপরাধে অংশ নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় দেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়ে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাতজনকে যাবজ্জীবন ও দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর একজনকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, রায়ের কপি তিনি মাত্র পেয়েছেন। তখনো পড়তে পারেননি।

এ পূর্ণাঙ্গ রায়ের একটি সফট কপি প্রথম আলো পেয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, এ মামলায় প্রত্যেক আসামি সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং অভিন্ন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অবদান রেখেছেন। এ মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সদস্য আসামি, তাঁরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন। তাঁদের কাছে কমান্ড অথরিটি ও অভিযান পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ ছিল। ফলে তাঁদের কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে তাঁরা পুরোপুরি সচেতন ছিলেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা প্রভাব বিস্তার, সমন্বয় ও জনসমাবেশ সংগঠনের মাধ্যমে এমন ভূমিকা পালন করেছেন, যা অপরাধ সংঘটনে বাস্তবিকভাবে সহায়ক হয়েছে।

সরাসরি অংশগ্রহণ, সহায়তা, সুবিধা প্রদান কিংবা অবহেলার মাধ্যমে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে (জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ) অপরাধ করেছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আরও বলা হয়েছে, কোনো কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদন না করলেও তাঁরা জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের (সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র) দায় থেকে অব্যাহতি পান না। এসব কারণে ট্রাইব্যুনাল মনে করেন, আসামিরা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গঠিত সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্য ও অংশগ্রহণকারী ছিলেন বলে প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এ মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস ও ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি উত্তর) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।

আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি এ মামলায় অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হয়েছিলেন।

Read full story at source