বৈদ্যুতিক গাড়ির যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণে যা করবেন, যা করবেন না

· Prothom Alo

পত্রিকার পাতায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তেলের জন্য বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বিশাল লাইন দেখা যাচ্ছে। তেলের ঝামেলা এড়াতে অনেকেই বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন। পরিবেশ সচেতনতা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে অনেকেই এখন প্রথাগত ইঞ্জিনচালিত গাড়ি ছেড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) দিকে ঝুঁকছেন। প্রথাগত গাড়ির তুলনায় বৈদ্যুতিক গাড়ির গঠন অনেক সহজ হলেও এর প্রযুক্তিতে রয়েছে ভিন্নতা। এ বিষয়ে তড়িৎ প্রকৌশলী পারভেজ মাহমুদ ও গাড়িবিষয়ক ইউটিউব চ্যানেল মেহেদি কার শোর ইনফ্লুয়েন্সার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, বিওয়াইডি বাংলাদেশের প্রোডাক্ট স্পেশালিস্ট মো. রিজওয়ান রহমান জানাচ্ছেন বেশ কিছু তথ্য।

ব্যাটারির সুরক্ষা

বৈদ্যুতিক গাড়ির সবচেয়ে মূল্যবান অংশ হলো, এর ব্যাটারি। এর আয়ু বাড়াতে চার্জিং অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য ব্যাটারি কখনোই ০ শতাংশ হতে দেবেন না এবং ১০০ শতাংশ পূর্ণ করবেন না। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির জন্য ২০ থেকে ৮০ বা ৯০ শতাংশের মধ্যে চার্জ রাখা আদর্শ বলা যায়। আপনার গাড়িতে যদি নিকেল কোবাল্ট ম্যাঙ্গানিজ ব্যাটারি থাকে, তবে ৯০ শতাংশ চার্জ করুন। আর লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি হলে মাসে অন্তত একবার ১০০ শতাংশ চার্জ দেওয়া ভালো। অতিরিক্ত গরমে ব্যাটারির ক্ষতি হয়। বাংলাদেশে প্রচণ্ড গরমের সময় গাড়িটি ছায়াযুক্ত স্থানে বা গ্যারেজে পার্ক করার চেষ্টা করুন। গাড়ি যদি ১৫ দিন বা তার বেশি অব্যবহৃত থাকে, তবে অন্তত ৫০ শতাংশ চার্জ রাখুন এবং মাঝেমধ্যে চালু করে একটু নাড়াচাড়া করুন, যাতে লুব্রিকেশন ঠিক থাকে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

ব্রেকিং সিস্টেম ও রিজেনারেটিভ ব্রেকিং

ইভিতে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং প্রযুক্তি থাকে, যা গাড়ি থামানোর সময় শক্তি সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করে। এই প্রযুক্তির কারণে যান্ত্রিক ব্রেকের ওপর চাপ কম পড়ে, ফলে ব্রেক প্যাড ও ডিস্ক প্রথাগত গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি দিন টেকে। যদিও ব্রেক কম ক্ষয় হয়, তবু মাঝেমধ্যে সাধারণ ব্রেক ব্যবহার করা উচিত, যাতে মরিচা না পড়ে। বছরে অন্তত একবার ব্রেক ফ্লুইড পরীক্ষা ও প্রয়োজনে পরিবর্তন করুন।

টায়ারের রক্ষণাবেক্ষণ

বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির ওজন অনেক বেশি হওয়ায় টায়ারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। ইভির টায়ার সাধারণ গাড়ির চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দ্রুত ক্ষয় হতে পারে। তাই প্রতি ১০ হাজার মাইল বা ১২ মাস অন্তর টায়ার রোটেশন (স্থান পরিবর্তন) করা জরুরি। সঠিক টায়ার প্রেশার বজায় রাখুন। কম চাপে ব্যাটারির রেঞ্জ কমে যায় এবং টায়ার দ্রুত নষ্ট হয়।

কুলিং সিস্টেম ও তরল পরীক্ষা

যদিও ইভিতে ইঞ্জিন অয়েল বা গিয়ার অয়েল পরিবর্তনের ঝামেলা নেই, তবু কিছু তরল পদার্থ চেক করতে হয়। ব্যাটারি ও ইলেকট্রনিকস ঠান্ডা রাখার জন্য নির্দিষ্ট কুলিং সিস্টেম থাকে। প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুযায়ী কুল্যান্টের মাত্রা পরীক্ষা করুন। ইভিতে জটিল গিয়ারবক্স না থাকলেও ড্রাইভ ডিফারেনশিয়ালের জন্য সামান্য ফ্লুইড প্রয়োজন হয়, যা দীর্ঘ সময় পরপর পরিবর্তন করতে হয়। সাধারণ গাড়ির মতোই গ্লাস পরিষ্কারের ফ্লুইড এবং কেবিন এয়ার ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার বা পরিবর্তন করুন।

প্রথাগত বনাম বৈদ্যুতিক গাড়ি

ইভির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ প্রথাগত গাড়ির চেয়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কম। ইভিতে পিস্টন, ভাল্‌ভ, টাইমিং বেল্ট, সিলিন্ডার হেড গ্যাসকেট বা এগজোস্ট সিস্টেম নেই। ফলে এসব যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। ইঞ্জিন অয়েল, অয়েল ফিল্টার বা ফুয়েল ফিল্টার পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। ট্রান্সমিশন সিস্টেম অত্যন্ত সরল হওয়ায় গিয়ার–সংক্রান্ত জটিলতা ও মেরামতের খরচ বেঁচে যায়।

সফটওয়্যার হালনাগাদ ও ইলেকট্রনিকস

আধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ি অনেকটা চাকার ওপর কম্পিউটারের মতো। অনেক ইভিতে ওয়াই–ফাইয়ের মাধ্যমে সফটওয়্যার হালনাগাদ আসে। এই হালনাগাদগুলো গাড়ির পারফরম্যান্স ও রেঞ্জ বাড়াতে সাহায্য করে, তাই এগুলো নিয়মিত ইনস্টল করুন। মূল ট্র্যাকশন ব্যাটারির পাশাপাশি গাড়িতে একটি সাধারণ ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে, যা লাইট ও ইলেকট্রনিকস চালায়। প্রতি তিন বছর অন্তর এটি পরীক্ষা বা পরিবর্তন করা উচিত।

Read full story at source