কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ–বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

· Prothom Alo

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ধর্মের মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আজ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসেছি। এক কাতারে রয়েছি। এটিই আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ–বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী—আমরা সবাই মিলে ভালো থাকব।’

Visit sportfeeds.autos for more information.

আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ, গির্জার যাজক ও পালকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বগুড়ার বায়তুল রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের ইমাম হোসাইন আহমেদ আবদুল্লাহর হাতে সম্মানীর চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে আইবাস সিস্টেমে ‘সেন্ট বাটন’ চেপে সম্মানীর টাকা নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আজ থেকে চালু হলো খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। সারা দেশে যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে এ সহায়তা দেওয়া হবে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তথা প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে।’

নাগরিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকদেরও কিন্তু রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি কিছু দায়দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি; আমি আশা করছি, ১০ বছরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পাব।’

সরকারের এই উদ্যোগের আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশজুড়ে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ, ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্মানি দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, পর্যায়ক্রমে সবাইকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের জন্য সরকারের এসব আর্থিক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।’

নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদারি অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু করা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ আছে। আমরা এই মসজিদগুলোকে ধর্মীয়, সামাজিক এবং নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রে পরিণত করতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দেশে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু হয়েছিল। বর্তমান সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের একটি নির্দিষ্ট হারে সম্মানী ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের যোগ্যতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে আরও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই পরিকল্পনা নিয়েছে।

ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র মানুষের জীবনের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে; কিন্তু ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতাবোধ, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সংহতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয়, দায় কিংবা দয়া—এ সব বৈশিষ্ট্য অর্জন ছাড়া একজন ব্যক্তি মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন হয়ে উঠতে পারে না। এসব অর্জনের জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়া জরুরি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিহিংসা ও সহিংসতামুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে ধর্মের উদারনৈতিক শিক্ষণীয় বক্তব্য অতুলনীয়। আমার বিশ্বাস, নৈতিকতাসমৃদ্ধ মানব সমাজ গঠনের জন্য প্রতিটি ধর্মেই ইতিবাচক বার্তা আছে। সুতরাং, একটি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানসিকতা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের মতো ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন মানুষদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

Read full story at source