হাই পারফরমারদের কি হৃদ্রোগের ঝুঁকি বেশি
· Prothom Alo
আপনি কি একাডেমিক, ব্যক্তিগত বা পেশাজীবনে অথবা জীবনের সব ক্ষেত্রে সবাইকে ছাপিয়ে যেতে চান? সফলতাই কি আপনার কাছে ঘুম, শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্যসহ সবকিছুর ঊর্ধ্বে? সে জন্য আপনি নিজের জীবন বাজি ধরে প্রতিটা দিন পারফর্ম করেন? তাহলে এই লেখা আপনার অবশ্যই পড়া উচিত।
যাঁরা ১১ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় অফিস করেন, তাঁদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সংখ্যাও অনেকউচ্চ সফলতা বা পারফরম্যান্স অর্জনের জন্য কিছু মানুষ অত্যন্ত কঠোর শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করেন। প্রায় প্রতিদিন চাপের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। এ ধরনের ‘হাই পারফরমার’দের হৃদ্রোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
Visit amunra.help for more information.
এটা শুধু সাধারণ ঝুঁকির কারণের মতো নয়। কেননা, দীর্ঘ মেয়াদে চিরস্থায়ী চাপ ও অবসাদ হৃৎপিণ্ডের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া শরীরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
কাজের ধরন অনুসারে বাড়তে পারে ওজন। ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। জয়েন্ট ও পেশির সমস্যা হতে পারে। এমনকি মস্তিষ্কও হতে পারে ক্ষতিগ্রস্ত। জেনে নিন কোন ধরনের হাই পারফরমারদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি বেশি।
১. দীর্ঘ কর্মঘণ্টা
যাঁরা সপ্তাহে ৫৪ ঘণ্টা বা তার বেশি (সপ্তাহে ৬ দিন, দিনে ৯ ঘণ্টা) কাজ করেন, তাঁদের করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।
২. বেশি চাপ ও উদ্বেগ
চাপ থাকলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন (যেমন কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন) বেশি থাকে। এসব উচ্চ রক্তচাপ ও দীর্ঘমেয়াদি ইনফ্লেমেশন তৈরি করে।
হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি কমায় যে তিন ধরনের খাবার৩. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের অভাব
ঘুম ও বিশ্রামের অভাবে শরীর ‘রিল্যাক্সেশন’ পর্যায়ে যেতে পারে না। ফলে হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা দ্রুত কমে যেতে পারে।
৪. অনিয়মিত ব্যায়াম
অনেকেই দক্ষতা বা ফলাফল দেখাতে অকস্মাৎ ভারী কাজ বা শারীরিক কসরত অথবা ব্যায়াম করেন। এতে হুট করে হৃৎপিণ্ডে চাপ পড়ে। আবার পরিমিত ও ধারাবাহিক ব্যয়ামের অভাবেও হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ বাড়ে।
তীব্র চাপ সহ্য করার মনোভাব থাকায় হাই পারপফরমাররা সাধারণত পূর্বলক্ষণ, যেমন ক্লান্তি, ব্যথা বা অস্বস্তিকে উপেক্ষা করেন৫. ‘পুশ থ্রু’ মনোভাব
তীব্র চাপ সহ্য করার মনোভাব থাকায় হাই পারপফরমাররা সাধারণত পূর্বলক্ষণ, যেমন ক্লান্তি, ব্যথা বা অস্বস্তিকে উপেক্ষা করেন। ফলে অনেক সময় রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা দেরিতে শুরু হয়।
বুক ধড়ফড় করা মানেই কি হৃদ্রোগ?মনে রাখতে হবে
কর্মক্ষেত্রে সফল বা হাই পারফরমারদের কিছু পরিস্থিতিতে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এটা সরাসরি সফলতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং সফলতার পথে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও চাপের ধরনই হৃদ্রোগের ঝুঁকির মূল কারণ। অর্থাৎ সফল হওয়া মানেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ানো নয়। ঝুঁকি বাড়ে তখনই, যখন—
কাজ-জীবনের ভারসাম্য থাকে না
দীর্ঘমেয়াদি চাপ থাকে
বিশ্রাম, ঘুম ও স্বাস্থ্যকে অবহেলা করা হয়
ঝুঁকি কমবে কীভাবে
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম
সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়াম
কাজের মাঝে বিরতি
কর্মক্ষেত্রের চাপকে বাড়িতে না নিয়ে আসা (যে কারণে হোম অফিস খানিকটা ঝুঁকিপূর্ণ)
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট (ধ্যান, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম)
নিয়মিত রক্তচাপ, সুগার ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা
সূত্র: কার্ডিওভাসকুলার হেলথ ক্লিনিক
কিডনি ও হৃদ্রোগ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী, কীভাবে প্রতিরোধ করবেন