ভালোবাসার মানুষটি কি সব সময়ই আপনার সঙ্গে ভয়ে থাকছে
· Prothom Alo
ভালোবাসার মানুষের জন্য নাকি সব করা যায়। তবে কিছু মানুষ আছে, যারা পছন্দের মানুষটির জন্য সব করতে গিয়ে নিজেকেই হারিয়ে ফেলেন। অপর দিকে যেই মানুষটির জন্য এত কিছু করছেন, তার কাছে এটাকেই মনে হয় স্বাভাবিক। কিছু মানুষ আবার নিজের ভালোবাসার মানুষের পরীক্ষা নিয়েও থাকেন। তবে ক্রমাগত এই পরীক্ষা দিতে দিতে একসময় আরেকজনের মনে বড় ধরনের চাপ পড়তে পারে। ভয় হতে পারে, সঙ্গীর মনের মতো কাজ না করতে পারলেই তো অশান্তি হবে। হয়তো চিরতরে তিনি দূরে চলে যাবেন। এই অনিরাপত্তাবোধ ভালোবাসার সম্পর্ককে অস্থির করে তোলে, হারিয়ে যায় সম্পর্কের স্বস্তি।
Visit raccoongame.org for more information.
আনপ্লাগড ওয়েডিং কী? রাশমিকা–বিজয়ের বিয়েতে ‘নো ফোন’ নীতির পেছনের ভাবনাভালোবাসার সম্পর্কে সব সময়ই দুশ্চিন্তা থাকলে জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েএ প্রসঙ্গে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী শারমিন হক বলেন, ভালোবাসার সম্পর্কে নিরাপত্তার বোধ দুজন মানুষের মনে প্রশান্তি আনে। এতে ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে বাড়তি কোনো চাপ থাকে না।
অন্যদিকে ভালোবাসার সম্পর্কে সব সময়ই দুশ্চিন্তা থাকলে বা মানসিক নিরাপত্তা না থাকলে জীবন হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত। যেকোনো কাজ করতে গেলে বারবার সঙ্গীর মন পড়তে হয় [এটা ওর ভালো লাগছে তো?]। সঙ্গীর কাছ থেকে বারবার আশ্বাস পেতে চাওয়ার একটা তাড়নাও থাকতে পারে। একজন যদি সম্পর্কটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, বারবার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান কিংবা সঙ্গীকে সংকটের মধ্যে ফেলেন, তাহলে সেই সম্পর্কে মনের নিরাপত্তা থাকে না।
আর্থিক নিরাপত্তা থাকলেও কেন হারিয়ে যায় মানসিক নিরাপত্তা? কীভাবে তা ধরে রাখা যায়? জেনে নেওয়া যাক এই বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে।
সম্পর্কের নিরাপত্তা হারায় যেভাবে
অনেকেরই ধারণা, পারস্পরিক যোগাযোগ কমে গেলে সম্পর্কে আস্থা হারান সঙ্গী। তবে এর মানে কিন্তু এমন নয় যে দূরে থাকলেই সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। একই ঘরে থেকেও সৃষ্টি হতে পারে মানসিক দূরত্ব। আবার হাজার মাইল দূরে থাকা সঙ্গীও থাকতে পারেন আপনার মনের খুব কাছে। কীভাবে পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন, কীভাবে বোঝাপড়া করছেন রোজকার জীবনের নানা দিক, কতটা যত্ন করছেন একে অন্যের—এই বিষয়গুলো সম্পর্কে খুব জরুরি। যোগাযোগ, বোঝাপড়া, যত্ন ও মায়ার অভাবে সঙ্গী অনিরাপদ বোধ করেন।
মৃত নারীর জরায়ু প্রতিস্থাপিত হলো জরায়ুবিহীন নারীর শরীরে, জন্ম নিল এক শিশুকখনোই সঙ্গীর বিরুদ্ধে জেতার জন্য তর্ক করবেন নাযা করবেন
সঙ্গীকে স্বাধীনতা দিন। মতের অমিল তো হতেই পারে। তবে তাঁর নিজের মতো করে কিছু করার এবং মন খুলে কথা বলার স্বাধীনতা তাঁকে দিতেই হবে। যে বিষয়গুলো নিয়ে সংশয় আছে, সেই বিষয়গুলোর সমাধান করে নিন।
এ ছাড়া দুজনের ব্যক্তিজীবনের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখুন। কিছু ক্ষেত্রে নিজস্ব সীমারেখা বজায় রাখুন। সঙ্গীর বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তনকে মেনে নিন। মনে রাখবেন, সময়ের সঙ্গে আপনার শরীরেও পরিবর্তন আসছে। ঝগড়া হলেও মনের ক্ষত সারানোর চেষ্টা করুন। যেখানেই থাকুন, সঙ্গীর খোঁজ রাখুন। প্রতি ঘণ্টায় খুদে বার্তা পাঠানো জরুরি না হলেও মানসিকভাবে যুক্ত থাকা আবশ্যক। তাঁর সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিন।
যা করবেন না
সঙ্গীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না। তাঁকে তাচ্ছিল্য করে কোনো কথা বলবেন না।
পুরোনো অপ্রীতিকর প্রসঙ্গ টেনে আনবেন না। অকারণে অবিশ্বাস করবেন না।
তৃতীয় পক্ষের কথায় প্রভাবিত হয়ে সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না।
সঙ্গীকে ভয় বা কোনো ধরনের হুমকি দেবেন না। নিজের ক্ষতি করার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন না।
সঙ্গীর বিরুদ্ধে জেতার জন্য তর্ক করবেন না। সঙ্গীর কাছে তর্কে হেরে যেতে ভয় পাবেন না। ভুলে যাবেন না, তাঁকে সঙ্গে নিয়েই জীবনযুদ্ধ করতে হবে।