এই সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না

· Prothom Alo

সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের শিকার প্রথম আলো ভবনে চলছে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এই প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা দেখছেন পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, টেবিল, চেয়ার, বই, নথিপত্র ইত্যাদি।

Visit milkshakeslot.online for more information.

গতকাল সোমবার প্রদর্শনীর ষষ্ঠ দিনে ব্যতিক্রমী এ শিল্পকর্ম দেখতে এসে চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান বলেন, এমন ভয়াবহতা দেখে বুকটা ভেঙে যায়, মনটা ভেঙে যায়— যারা এ ঘৃণ্য কাজ করেছে, তারা আসলে মানুষরূপী অমানুষ।

পুড়িয়ে দেওয়া ভবনটি নিয়ে শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের ‘আলো’ নামের এই প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত, চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সর্বস্তরের দর্শকদের জন্য প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে প্রদর্শনী।

প্রদর্শনী দেখতে এসে শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের প্রশংসা করেন প্রকৌশলী সাহানা ফরিদ। তিনি বলেন, এটা আসলেই ভিন্ন একটি কাজ হয়েছে, ভবিষ্যতের জন্য এটি সংরক্ষণ করা উচিত।

পুড়িয়ে দেওয়া ভবনটি নিয়ে শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের ‘আলো’ নামের এই প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত, চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সর্বস্তরের দর্শকদের জন্য প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে প্রদর্শনী।
প্রথম আলোতে আক্রমণের ভয়াবহতা মূর্ত হয়ে উঠেছে শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের শিল্প–ভাবনায়

প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন বেসরকারি দীপ্ত টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী তানভীর ফারুক ও বার্তা প্রধান এস এম আকাশ। এস এম আকাশ বলেন, ‘কোনোভাবেই এ ধরনের সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাই, মানুষের উন্নয়ন চাই, তাহলে বাক্‌স্বাধীনতা থাকতেই হবে।’

প্রদর্শনী দেখতে এসে ব্যাংকার জান্নাতুন নাঈম বলেন, ‘আমি ধারণাও করতেও পারিনি এমন ঘটনা ঘটবে। এরপরও প্রথম আলো পত্রিকা প্রকাশ করে দেখিয়েছে, তারা মাথা নোয়াবার নয়।’

প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন ইউএনডিপির রুলস অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সিনিয়র অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অবশ্যই সমুন্নত রাখতে হবে। এই প্রদর্শনী একটি শক্তিশালী স্মারক। এটি গণতন্ত্রের প্রহরীদের অবিচল সাহসিকতার জোরালো প্রমাণ।

প্রথম আলোর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আয়োজিত প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন এক দর্শনার্থী

প্রদর্শনীর দোতলায় আগুনে যেসব বই পোড়েনি, সেগুলোই প্রদর্শন করা হয়েছে। অক্ষত বইয়ের প্রদর্শনীতে লেখা, ‘এই মহাসাগরে স্নান করে জাগোরে’। দোতলার নথিপত্র, বই, আসবাব, যন্ত্রাংশসহ যাবতীয় ধ্বংসস্তূপের ওপর রয়েছে সাদা কফিন।

তৃতীয় তলায় পুড়ে যাওয়া লোহালক্কড় প্রদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ফ্লোরের পোড়া বৈদ্যুতিক তার এবং অন্যান্য জিনিসও আছে। প্রথম আলোর যেসব কর্মী ভবন পুড়তে দেখেছেন, তাঁদের বক্তব্যও প্রদর্শিত হচ্ছে।

প্রদর্শনী দেখার পর মন্তব্য লিখছেন এক দর্শনার্থী

প্রদর্শনী দেখতে রাজধানীর মিরপুর থেকে সন্তানদের নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান ও সৈয়দা জাহানারা দম্পতি। ২০১৬ থেকে নিয়মিত প্রথম আলো পড়ার কথা জানিয়ে সৈয়দা জাহানারা বলেন, ‘হামলার এক দিন পর প্রথম আলো হাতে পেয়ে ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম।’

চতুর্থ তলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে প্রথম আলো ভবনে হামলার ভিডিও চিত্র। সেই সঙ্গে চতুর্থ তলায় উগ্রবাদীরা যে লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে, তা–ও প্রদর্শিত হচ্ছে। ভাঙচুর করা ও এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা জিনিসপত্রের ওপর রয়েছে একঝাঁক কবুতর।

Read full story at source