প্রকৃতি সব সময়ই আপন গতিতে প্রবহমান থাকে

· Prothom Alo

বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন

Visit milkshakeslot.com for more information.

কবিতা: সেইদিন এই মাঠ

# নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কথাসাহিত্যে প্রকৃতিকে একটি জীবন্ত চরিত্র হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। বিশেষ করে ‘পথের পাঁচালী’ ও

‘আরণ্যক’ উপন্যাসে প্রকৃতি চিরকালের নবীনরূপে আবির্ভূত হয়েছে। অপু, দুর্গাসহ অনেকে সেই চিরন্তন প্রকৃতির সন্তান। এরা যায়-

আসে, থাকে না। কিন্তু প্রকৃতি চিরকালই নানা রূপ, রস, গন্ধ ও বর্ণে বিরাজমান থাকে।

প্রশ্ন

ক. কী ছাই হয়ে গেছে?

খ. ‘পৃথিবীর এই সব গল্প বেঁচে রবে চিরকাল’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

গ. উদ্দীপকের প্রকৃতি জানার সঙ্গে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক ব্যাখ্যা করো।

ঘ. কবিতায় উল্লিখিত সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. ব্যবিলন ছাই হয়ে গেছে।

খ. প্রশ্নের পঙ্‌ক্তিটি দ্বারা কবি প্রকৃতির নিত্য ব্যস্ততার দিকটিকে উপস্থাপন করেছেন।

পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব চিরন্তন। কবি মনে করেন, জীবন বা প্রকৃতির সেই সৌন্দর্যের গল্প পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে চিরকাল। ব্যক্তিমানুষ হয়তো চিরদিন বেঁচে থাকবে না। মানুষের গড়া সভ্যতাও বিলীন হবে একদিন; আবার গড়ে উঠবে নতুন সভ্যতা। আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটির মাধ্যমে প্রকৃতি নিয়ে কবি তাঁর ব্যক্তিগত এ ভাবনাটিই প্রকাশ করেছেন।

গ. ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় জীবন ও প্রকৃতি নিয়ে কবির ভাবনার সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় কবি প্রকৃতির শাশ্বত রূপটিকে তুলে ধরেছেন। কবি লক্ষ করেছেন, বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও প্রকৃতি তার আপন নিয়মে প্রবহমান থাকে।

উদ্দীপকে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত দুটি উপন্যাসে প্রকৃতির চিরন্তন রূপ ফুটিয়ে তোলার প্রসঙ্গটি এসেছে। এখানে বলা হয়েছে, ব্যক্তিমানুষ প্রকৃতির চিরন্তন অনুষঙ্গ নয়, এরা যায়-আসে; কিন্তু প্রকৃতি চিরন্তন। ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায়ও কবি নিজের মৃত্যু–সম্পর্কিত এ রকম ভাবনা প্রকাশ করেছেন। এর পাশাপাশি কবি এ–ও মনে করেন, তাঁর মৃত্যুর পরও প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মেই কর্মব্যস্ত থাকবে। উদ্দীপকেও প্রকৃতির শাশ্বত রূপটিই উপস্থাপন করা হয়েছে। সে বিবেচনায় ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির চিরন্তনতার ভাবনাই উদ্দীপকে সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

ঘ. ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ককে উপস্থাপন করা হয়েছে, উদ্দীপকের বর্ণনাতেও তা উঠে এসেছে।

‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় কবি নিজেকে ব্যক্তিমানুষের প্রতিনিধিত্বকারীরূপে দেখিয়েছেন। মৃত্যুর পরও প্রকৃতির স্বাভাবিকতায় কোনো হেরফের হয় না। ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু যেমন প্রকৃতির নিরবচ্ছিন্ন ব্যস্ততার প্রভাবক নয়, তেমনি নাগরিক কোনো সভ্যতাও নয়।

উদ্দীপকে প্রকৃতির সঙ্গে সভ্যতা বা মানুষের সম্পকে৴র কথা বর্ণিত হয়েছে। অপু-দুর্গার মতো প্রকৃতির সন্তানেরা আসে যায়; কিন্তু থাকে না।

পক্ষান্তরে, প্রকৃতি সব সময়ই তার আপন গতিতে প্রবহমান থাকে। মানুষ প্রকৃতিরই অংশ, কিন্তু মানবজীবন চিরন্তন নয়, মৃত্যু অনিবার্য। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু হলেও প্রকৃতি তার আপন মহিমায় মানুষের স্বপ্ন ও সাধকে পূর্ণ করে যাবে। ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় প্রকৃতির নিত্যতার এ দিকটিই তুলে ধরা হয়েছে।

আজ যা জনবহুল নগরী, কাল তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে; কিন্তু মানবসভ্যতার এই ভাঙা-গড়া, মানুষের জীবন বা প্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে না। প্রকৃতির নিজস্বতা, সৌন্দর্য, আন্তসম্পর্ক চিরকালের। ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় কবি তাঁর মৃত্যুতে প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিশীলতায় কোনো প্রভাব পড়বে না মত দিয়ে এই ধ্রুব সত্যকেই প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকে চিরকাল প্রকৃতির রূপ, রস ও গন্ধের বিরাজমানতার কথা বলা হয়েছে।

  • মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা

Read full story at source