স্বাক্ষর থেকে জেনে নিন মানুষ হিসেবে আপনি কেমন
· Prothom Alo

সিগনেচার বা স্বাক্ষর শুধু আপনার পরিচয় নির্ধারণের মাধ্যম বা কেবল একটি নাম লেখার উপায় নয়। গ্রাফোলজিস্ট বা হাতের লেখার বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি স্বাক্ষর থেকে আপনার পাবলিক ইমেজ বা অন্যদের সামনে আপনি নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করতে চান, সে সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা পাওয়া যায়।
স্বাক্ষর থেকে কী বোঝা যায়
১. ব্যক্তিত্বের প্রকাশ: স্বাক্ষর হলো আপনার বাইরের রূপের একটি প্রতিচ্ছবি। এর মাধ্যমে মূলত আপনি বহির্বিশ্বের সামনে নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করতে চান, সেটিই প্রতিফলিত হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে এর আড়ালে মানুষের সত্যিকারের ব্যক্তিত্বও প্রকাশ পেয়ে যায়।
Visit xsportfeed.quest for more information.
২. স্বাক্ষরের আকার: বড় আকারের স্বাক্ষর উচ্চ সামাজিক আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ আকর্ষণের প্রবণতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। অন্যদিকে ছোট স্বাক্ষর সাধারণত অন্তর্মুখী স্বভাব, লাজুকতা বা বিনয়ী মনোভাব প্রকাশ করে।
৩. পাঠযোগ্যতা: অনেকের স্বাক্ষর বেশ স্পষ্ট ও সহজে পড়া যায়। এর মানে হলো, তাঁরা সামাজিকভাবে বেশ খোলামেলা ও সরল প্রকৃতির। অন্যদিকে অস্পষ্ট বা জটিল স্বাক্ষরের অধিকারীরা সাধারণত গোপনীয়তা পছন্দ করেন এবং নিজের সম্পর্কে অন্যদের খুব কম তথ্যই দিতে চান।
অস্পষ্ট বা জটিল স্বাক্ষরের অধিকারী ব্যাক্তিরা সাধারণত গোপনীয়তা পছন্দ করেন৪. লেখার ঝোঁক ও আকৃতি: স্বাক্ষর ডান দিকে হেলানো হওয়ার অর্থ হলো, স্বাক্ষরকারী বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন। বাঁ দিকে হেলানো থাকলে ধারণা করা হয় যে তিনি কিছুটা নিজের ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখতে পছন্দ করেন। আবার গোলাকার অক্ষরের স্বাক্ষর সাধারণত শান্ত ও সহমর্মী ব্যক্তির লক্ষণ।
৫. অলংকরণ বা সাজানো ভাব: অনেকের স্বাক্ষর একদম অন্য রকম এবং বেশ অলংকৃত বা প্যাঁচানো হয়। এর অর্থ হলো, তিনি নিজেকে বিশেষ বা অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে তুলে ধরতে চান। অন্যদিকে বেশি কোঁকড়ানো বা তীক্ষ্ণ কোণযুক্ত স্বাক্ষরের অধিকারীরা অনেক সময় কঠোর স্বভাবের ও সমালোচনামুখর হতে পারেন।
পৃথিবীতে এত পাখি থাকতে আমরা শুধু মুরগি খাই কেনবড় আকারের স্বাক্ষর উচ্চ সামাজিক আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ আকর্ষণের প্রবণতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। অন্যদিকে ছোট স্বাক্ষর সাধারণত অন্তর্মুখী স্বভাব বা বিনয়ী মনোভাব প্রকাশ করে।
ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স ও ফরেনসিক গ্রাফোলজিতে স্বাক্ষর
ফরেনসিক গ্রাফোলজি ব্যবহার করে স্বাক্ষরের ধরন, কলমের চাপ, কোণ এবং রেখার বৈশিষ্ট্যগুলো নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হয়। এটি মূলত স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই বা জালিয়াতি চিহ্নিত করতে কাজে লাগে। কোনো ব্যাংক চেক, চুক্তিপত্র, আইনি নথি বা চিঠি যে আসলেই নির্দিষ্ট ওই ব্যক্তিরই লেখা, তা নিশ্চিত করতে মূল স্বাক্ষরের সঙ্গে সন্দেহভাজন স্বাক্ষরের তুলনা করা হয়।
ফরেনসিক গ্রাফোলজি মূলত স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই বা জালিয়াতি চিহ্নিত করতে কাজে লাগেকিছু ক্ষেত্রে জাল স্বাক্ষরকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়। তবে কোনো অপরাধীকে শনাক্ত বা দোষী সাব্যস্ত করার জন্য কেবল একটি স্বাক্ষরই যথেষ্ট নয়।
সাধারণত, স্বাক্ষর পরীক্ষার ফলাফলকে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর জবানবন্দি, আঙুলের ছাপ, ডিএনএ এবং অ্যালিবাইয়ের মতো অন্যান্য জোরালো প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
বীজগণিতের জনক কেকোনো ব্যাংক চেক, চুক্তিপত্র, আইনি নথি বা চিঠি যে আসলেই নির্দিষ্ট ওই ব্যক্তিরই লেখা, তা নিশ্চিত করতে মূল স্বাক্ষরের সঙ্গে সন্দেহভাজন স্বাক্ষরের তুলনা করা হয়।
স্বাক্ষর পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা
১. নকল হওয়ার ঝুঁকি: খুব দক্ষ জালিয়াতেরা প্রায় আসলের মতোই হুবহু স্বাক্ষর নকল করতে পারে। অনেক সময় সাধারণ গ্রাফোলজিস্টদের পক্ষেও এই সূক্ষ্ম জালিয়াতি ধরা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
২. পরিবর্তনশীলতা: মানুষের স্বাক্ষর সারা জীবন এক রকম থাকে না। বয়স, মানসিক অবস্থা, মানসিক চাপ বা স্নায়বিক অসুস্থতার কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাক্ষরের ধরন বা প্যাটার্ন বদলে যেতে পারে।
৩. শতভাগ নিশ্চয়তার অভাব: গ্রাফোলজি একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা দিতে পারে ঠিকই, তবে এই ধারণা যে সব সময় শতভাগ নির্ভুল বা বিজ্ঞানসম্মত হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্টশতভাগ খাঁটি বলে কি কিছু আছে